গাইবান্ধা পৌর এলাকার অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব এখন বড় ধরনের জনভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে জলাতঙ্কের আতঙ্কও। এমন বাস্তবতায় দীর্ঘ এক দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে গাইবান্ধা পৌরসভা।
শনিবার (১৬ মে) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে বেওয়ারিশ কুকুরদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রায় ৮০০ কুকুরকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল থাকলেও গাইবান্ধা পৌরসভা নিজস্ব উদ্যোগে টিকাদান ও বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, জলাতঙ্ক নির্মূলে শুধু পৌর এলাকায় নয়, জেলার প্রতিটি অঞ্চলে ব্যাপকভিত্তিক কুকুর টিকাদান ও জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালনা জরুরি। জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ পুনরায় চালু না হলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে বলেও তারা মত দেন।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মো. মুশফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। সময়মতো টিকা প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পৌরবাসীর নিরাপত্তায় এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হানিফ সরদার জানান, সপ্তাহব্যাপী এই অভিযান চলবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দুজন করে পৌরকর্মী কার্যক্রম তদারকি করছেন। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এই কর্মসূচিতে কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে। দপ্তরের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে প্রশিক্ষিত ভ্যাকসিনেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম শরিফুল ইসলাম ডাকুয়া জানান, পৌর এলাকায় অন্তত ৮০০ বেওয়ারিশ কুকুর শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই ২৫০টি কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, পুরো কার্যক্রম যেন কোনো ওয়ার্ডে ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র পৌর এলাকায় টিকাদান করলে সামগ্রিক সমস্যার সমাধান হবে না। গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে আসা কুকুরের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই জলাতঙ্ক নির্মূলে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা এখন সময়ের দাবি।
/এসএকে