পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা মনে করছেন, আমি অর্থমন্ত্রী অর্থের ভান্ডার নিয়ে বসে আছি। একটা একটা চেক লিখে দেব, আর টাকা চলে আসবে। বিষয়টি অত সহজ না। তার মধ্যে আমরা একটা খুব খারাপ সময় অতিক্রম করছি।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের একটা টাকা চলে গেছে তেল-গ্যাসের মধ্যে। প্রায় ৪ বিলিয়ন মানে ৪০ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে বাজেট থেকে চলে গেছে। এর আগে বিগত সরকারগুলো থেকে আমরা যেটি পেয়েছি সেটি মাইনাস, মাইনাস অ্যান্ড মাইনাস। এখানে যোগ কিছু নেই। সব ঋণাত্মক এখানে। তো এগুলো আবার মেইকআপ করতে হচ্ছে। এমনকি অনেক বিল পর্যন্ত পেমেন্ট করেনি তারা। পাওয়ার সেক্টরে, এনার্জি সেক্টরে ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো বাকি রেখে চলে গেছে। এগুলো আবার সব পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সুতরাং অর্থনৈতিকভাবে বিরাট একটা ঋণাত্মক অবস্থায় আছি। এখান থেকে প্রথমে আমাদের বের হতে হবে। তারপর অর্থনীতি সামনের দিকে যাবে। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন আমি বলেছি, দুই বছর সময় লাগবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।
অর্থমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের একটা বড় কর্মসূচি নিয়েছে। এবার আমাদের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছি। কারণ আমরা যে সর্বজনীন হেলথ কেয়ার, প্রিভেনটিভ হেলথ কেয়ার ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের কথা বলছি এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। যে অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। এ অধিকার প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অধিকার থাকে। এ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও ওপরের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। যারা হতদরিদ্র, যাদের দারিদ্র্যের কারণে স্বাস্থ্যসেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে, তাদের ওপরের স্তরের যে চিকিৎসাগুলো দরকার সেগুলোর জন্য আমরা প্রাইভেট সেক্টরের অ্যারেজমেন্টে যাচ্ছি।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এ জন্য আমরা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। রোগীকে আমরা তাদের কাছে পাঠাব। তারা তাদের চিকিৎসা করবে। বিল সরকার দিয়ে দেবে। যারা হতদরিদ্র, দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসা করতে পারছে না, তাদের জন্য বাজেট বড় করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু বাজেট দিয়ে কিছু হবে না। স্বাস্থ্য খাতে যারা আছেন তাদের সহযোগিতা লাগবে। সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্যসেবা জনগণ পায় কি না সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বড় ভবন করলে কোনো উপকার হবে না, যারা অপারেট করে তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাদের মধ্যে সততার অভাব যদি হয়, বরাদ্দ কোনো কাজে আসে না।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ হয়েছে, তার অধিকাংশ দুর্নীতির মাধ্যমে চলে গেছে। জনগণ কোনো স্বাস্থ্যসেবা পায়নি। তাই আমি বলছি যে অতিরিক্ত বরাদ্দ এবার হবে, সেটি সবার সমন্বয়ের মাধ্যমে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সময়ের আলো/জেডি