ঝালকাঠিতে বোরোর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেল বাড়িয়া ও জগন্নাথপুর এলাকায় এবারই প্রথম বোরো ধানের চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা।বীজতলা

2026-05-17T16:59:20+00:00
2026-05-17T16:59:20+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঝালকাঠিতে বোরোর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম 
ঝালকাঠিতে বোরোর বাম্পার ফলন। ছবি : সময়ের আলো
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেল বাড়িয়া ও জগন্নাথপুর এলাকায় এবারই প্রথম বোরো ধানের চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। 

বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ধানের ফলন পর্যন্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এনি আক্তারের সার্বিক পরামর্শে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ব্যবস্থা করেন তারা। 

বালাই দমন করে ফসলের পুষ্টি নিশ্চিত করায় মাঠজুড়ে নজরকাড়া ফলন হয়েছে। প্রতি কাঠা জমিতে গড়ে তিন মণ করে ধান পেয়ে কৃষকরা অত্যন্ত আনন্দিত।

কৃষক মঞ্জুরুল আলম সিকদার বলেন, 'আমি ১৫ কাঠা জমিতে বোরো চাষ করেছি। ধান কেটে ফসল ঘরেও তুলেছি। আল্লাহ যেভাবে ফসল দিয়েছেন, তাতে প্রতি কাঠায় তিন মণ করে ধান পেয়েছি।' 

আরেক কৃষক ইব্রাহিম সিকদার জানান, তিনি ২২ কাঠা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। বীজতলা থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত সবকিছুই আধুনিক প্রযুক্তি এবং সঠিক সার ও বালাইনাশক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন। পাখি যাতে ধান কেটে না নেয়, সেজন্য তিনি পার্চিং পদ্ধতি ও শব্দযন্ত্র ব্যবহার করেছেন। কৃষি কর্মকর্তার সঠিক সময়ে সার্বিক পরামর্শের কারণেই এই কাঙ্ক্ষিত ফলন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

একই এলাকার কৃষক আল আমিন জানান, তিনি এক বিঘা (২০ কাঠা) জমিতে বোরো চাষ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে সার ও কীটনাশক দিলেও রাজাপুরে ভালো মানের ওষুধ না পাওয়ায় তাকে পিরোজপুরের নাজিরপুর এবং সাতক্ষীরা থেকেও ওষুধ আনতে হয়েছে। তবে সময়োপযোগী পরামর্শ সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারায় যে ফলন হয়েছে, তাতে তার আগামী এক বছরের খাদ্যের জোগান হয়ে যাবে। তিনিও প্রতি কাঠায় গড়ে তিন মণ করে ফলন পেয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠি জেলায় মোট ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষ সময়ে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠের একটি বড়ো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষকরা জানান, এ বছর শুরু থেকেই তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক কৃষককে বেশি দামে ডিজেল কিনে সেচ দিতে হচ্ছে, যার ফলে ধান উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমান ফলন পরিস্থিতি অনুযায়ী, ক্ষতি ও খরচ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। 

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের হরিপাশা গ্রামের কৃষক মো. মোসলেম হাওলাদার বলেন, 'আমি ব্রি ধান-৭৪ জাতের ১৬০ শতক এবং হাইব্রিড ময়না ও টিয়া জাতের ১২০ শতক জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধানগাছ কিছুটা ভেঙে পড়ায় ফসলের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাকি যা ফলন আছে, তাতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।' 

তিনি আরও যোগ করেন, এ বছর উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেশি ছিল, তার ওপর ডিজেল সংকটে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখন মুখে হাসি ফোটানোর মতো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন। 

নলছিটি উপজেলার শীতলপাড়া এলাকার কৃষক মামুন হোসেন জানান, তিনি ৫৫০ শতাংশ জমিতে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করে বোরো চাষ করেছিলেন। কিছুদিন আগের অতিবৃষ্টিতে সব ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ধান কাটা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে আবহাওয়া পুনরায় অনুকূলে আসায় বড়ো ক্ষতি থেকে রেহাই পেয়েছেন এবং যা ফলন হয়েছে তাতেই তার চলে যাবে।

রাজাপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এনি আক্তার জানান, কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা ও পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। ধানের শিষ ৮০ শতাংশ পরিপক্ব হলেই তা দ্রুত কেটে ফেলার জন্য বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, জেলায় এবার মোট ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ১০ হাজার হেক্টরের ধান কাটা শেষ। বর্তমানে ৯টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকেছে, সেগুলো দ্রুত কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে কৃষকরা নির্বিঘ্নে ধান ঘরে তুলতে পারবেন এবং কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   ঝালকাঠি  বোরো  বাম্পার ফলন  কৃষক  মুখে হাসি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: