ঢাকার সাভারে ঘুরতে গিয়ে পরিচয়, এরপর প্রেম— অবশেষে বিয়ে। ৫৯ বছর বয়সী চীনা নাগরিক আন হুং হয়েইয়ের ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার তরুণী মোর্শেদা আক্তারের পরিচয়ের মাত্র চার মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক গভীরতায় পৌঁছে যায়। ভালোবাসার সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে হাজার মাইল দূর থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে ছুটে আসেন চীনা নাগরিক আন হুং হোয়েই।
জানা গেছে, মোর্শেদা আক্তার ওই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। বিদেশি জামাইকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই। বাংলাদেশি তরুণী ও চীনা নাগরিকের এই সম্পর্ক দুই দেশের সংস্কৃতির এক ভিন্ন বন্ধনের উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও আন হুং হোয়েইয়ের আন্তরিক আচরণ ও সহজ-সরল জীবনযাপন ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর মন জয় করেছে।
মোর্শেদা আক্তার জানান, প্রথমে পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় প্রেমে রূপ নেয় এবং ঢাকায় তারা বিয়ে করেন। তিনি বলেন, স্বামী আমাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আমাদের গ্রামের বাড়িতে এসেছেন।
আন হুং হোয়েই বলেন, আমি মোর্শেদাকে খুব ভালোবাসি। তাকে পেয়ে আমি অনেক সুখী। বাংলাদেশে এসে এবং গ্রামের মানুষের আন্তরিকতা পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে। এ সময় তিনি বিয়ের কাগজপত্রও প্রদর্শন করেন।
কাশিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম জানান, বিষয়টি জানার পর তিনিও সেখানে যান। তিনি বলেন, তাদের সম্পর্ক ও পারিবারিক পরিবেশ দেখে আমার ভালো লেগেছে।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, প্রেমের টানে চীনা নাগরিকের ফুলবাড়ীতে আগমনের বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় যেমন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা।
সময়ের আলো/জোই