গতির সঙ্গে সাহস মিশে গেলে একজন ফাস্ট বোলার কতটা ভয়ংকর হতে পারেন, তার নতুন উদাহরণ নাহিদ রানা। পাকিস্তানের ব্যাটারদের জন্য তিনি যেন এক আতঙ্কের নাম। বিশেষ করে বাবর আজমের জন্য।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের একজন হয়েও এই তরুণ পেসারের সামনে বারবার অসহায় দেখাচ্ছে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ককে। সিলেট টেস্টেও সেই গল্পের পুনরাবৃত্তি হলো। আর ম্যাচ শেষে বাবরের কণ্ঠেই শোনা গেল নাহিদের গতির স্বীকৃতি।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ফের বাবর আজমকে ফিরিয়েছেন নাহিদ রানা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নাহিদের বিপক্ষে ৩৯ বল খেলে মাত্র ২২ রান করেছেন বাবর, আউট হয়েছেন তিনবার। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, টাইগার পেসারের গতির সামনে কতটা অস্বস্তিতে আছেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যাটিং ভরসা।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদকে নিয়ে বাবর বলেন, ‘নাহিদ রানা এখন লাল বলের ক্রিকেটের অন্যতম গতিময় বোলার।
প্রতিটি দলেই ১৪০-১৫০ কিলো. গতির বোলার থাকে। তাই এসব সামলাতেই হবে। আমিও চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা। নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলেছি। আপনি মাঝেমধ্যে সফল হবেন তবে কখনো কখনো আউট হয়ে যাবেন।’
শুধু প্রশংসাই নয়, নাহিদের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন পাকিস্তানি এই তারকা ব্যাটার, ‘নাহিদ রানা খুবই মেধাবী। আসল বিষয় হলো ওর গতি। আউটস্ট্যান্ডিং। নিয়ন্ত্রণও ভালো। দিনকে দিন নিজের বোলিং আরও ভালো করে তুলছে। তার ভবিষ্যতের জন্য আমার শুভকামনা থাকল।’
তবে নাহিদ রানার গল্পটা শুধু গতির নয়, মানসিকতারও। শরীরী ভাষায় হয়তো প্রচলিত ফাস্ট বোলারদের মতো আগ্রাসন নেই। মাঠে তাকে খুব বেশি চিৎকার করতে দেখা যায় না, নেই বুনো উদযাপনও। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি একজন খাঁটি ফাস্ট বোলার। প্রতিপক্ষের আগ্রাসনের জবাব আগুন দিয়েই দিতে চান।
এই মানসিকতারই প্রমাণ মিলেছিল মিরপুর টেস্টে। ওই ম্যাচে ব্যাটিং করতে নেমে শাহিন শাহ আফ্রিদির বাউন্সারের মুখে পড়েছিলেন নাহিদ। একজন গতিময় পেসারকে উসকে দেওয়ার জন্য সেটিই যথেষ্ট ছিল।
পরে শেষ দিনের শেষ সেশনে নাহিদের আগুন ঝরানো স্পেলে বিধ্বস্ত হয় পাকিস্তান। আর শাহিনকেই বাউন্সারে আউট করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তখন মজার ছলেই বলেছিলেন, ‘রানাকে বাউন্সার মারলে আবার বাউন্সার খেতেও হবে। আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না! কারণ, আমার শখ নেই অত জোরে বাউন্সার খেলার।’
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সেই কথাই মনে করিয়ে দেওয়া হয় নাহিদকে। আর অধিনায়কের সঙ্গে সুর মিলিয়েই জবাব দেন তরুণ এই পেসার।
নাহিদ বলেন, ‘বাউন্সার দিতে ভাববে কি না জানি না, তবে এতটুক বলতে পারি, আমাকে কেউ বাউন্সার মারলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলব না... এটি বলতে পারি।’
সিলেট টেস্টেও বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন নাহিদ। তার ৩ উইকেটের পাশাপাশি সমান সংখ্যক উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। তাতেই প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
তবে নাহিদের চোখে ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট ছিল লিটন কুমার দাসের ব্যাটিং। প্রথম দিনে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে লিটনের শতক দলকে ২৭৮ রানে পৌঁছে দেয়।
নাহিদ বলেন, ‘আমি বলব আমাদের টার্নিং পয়েন্ট ছিল লিটন দার ব্যাটিং। শেষের দিকে তাইজুল ভাই, তাসকিন ভাই, শরিফুল, তাদের শেষের দিকের ব্যাটিংও ভালো ছিল। কারণ, বোলিং তো আমরা ভালো করছি, কিন্তু যদি লিটন দার ব্যাটিংয়ে শতরান না হতো, আমরা ব্যাকফুটে থাকতাম। আমি মনে করি, তার সেঞ্চুরিই টার্নিং পয়েন্ট ছিল।’
/এসএকে