হিজরি সনে নতুন চাঁদ উদয়ের মাধ্যমে নতুন মাস শুরু হয়। তাই এ হিসাবকে বলা হয় চান্দ্রবর্ষ। ইসলামি জীবনে অনেক আমলই চান্দ্রবর্ষের ওপর নির্ভর করে। রোজা, ঈদুল ফিতর, হজ ও ঈদুল আজহা চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত। চাঁদ দেখেই এগুলোর সময় ও কার্যব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়। চাঁদের উদয় ও অস্ত যাওয়া সময় নির্ধারণে সহায়ক।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, ‘লোকজন আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিগ্যেস করে। আপনি তাদের বলে দিন, এটি মানুষের (বিভিন্ন কাজকর্ম ও ইবাদতের) এবং (বিশেষত) হজের সময় নির্ধারণ করার জন্য’ (সুরা বাকারা, আয়াত নং- ১৮৯)।
পবিত্র রমজানের রোজাও নতুন চাঁদ দেখে শুরু করতে হয়। নবীজি (সা.) রমজানের চাঁদ সম্পর্কে ইরশাদ করেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখা আরম্ভ করো এবং চাঁদ দেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করো’ (সহিহ বুখারি)।
অন্য বর্ণনায় নবীজি বলেন, ‘তোমরা (নতুন চাঁদ) না দেখা পর্যন্ত রোজা রেখো না এবং তা (নতুন চাঁদ) না দেখা পর্যন্ত রোজা ছেড়ে দিও না।’ (মুআত্তা ইমাম মালিক)।
নবীজি (সা.) শাবান মাস থেকে দিন গণনা করতেন, চাঁদের হিসাব রাখতেন। রমজানের নতুন চাঁদকে স্বাগত জানাতে উদগ্রীব হয়ে থাকতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবীজি শাবান মাসের হিসাব অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক গুরুত্বসহকারে রাখতেন।
অবশেষে রমজানের চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতেন। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে শাবান মাসের হিসাব ৩০ দিন পূর্ণ করতেন। এরপর রোজা আরম্ভ করতেন’ (সুনানে আবু দাউদ)। তাই রমজানের চাঁদ দেখা একটি ফজিলতপূর্ণ আমল।
এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা রমজানের (রোজা শুরু করার) জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।’ (জামে তিরমিজি)
চাঁদ দেখে দোয়া পড়া সুন্নত। হজরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) নতুন চাঁদ দেখলে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিলয়ুমনি ওয়াল-ইমান, ওয়াস-সালামাতি ওয়াল-ইসলাম রাব্বি ওয়া-রাব্বুকাল্লাহ।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আপনি চাঁদটি আমাদের জন্য বরকত ও ঈমানের সঙ্গে এবং শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। আমার ও তোমার (চাঁদ) প্রভু আল্লাহ’ (জামে তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদ)।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে চাঁদ দেখে রমজানের রোজা ও ঈদ পালন করার এবং নবীজির সুন্নত আদায়ের তওফিক দান করুন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
/এসএকে