গাজায় গণহত্যা প্রতিরোধে ইসরায়েলের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৮ মে) জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। খবর আলজাজিরার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর কার্যক্রম তদন্ত করেছে জাতিসংঘ। এতে দেখা গেছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের শামিল।
জাতিসংঘ ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলার্সের তদন্তে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের এই যুদ্ধ গণহত্যার সমতুল্য। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী কিছু হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও তাদের বহু হত্যাকাণ্ডই ছিল অবৈধ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। পরে যুদ্ধবিরতি হলেও গাজায় ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে এবং গত সাত মাসে আরও শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সংঘাত পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সহিংস অভিযানও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইসরায়েলকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজ বাড়িতে ফিরতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান অজিত সুনঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুদ্ধবিরতির পরও কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি এবং দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্বের কোনো মৌলিক সমাধানও আসেনি।
সময়ের আলো/জেডি