বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের বদিউল আলম সড়কের উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুসরণ না করেই দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, গণ্ডামারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর সম্প্রতি সড়কটির ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সংস্কার কাজ শুরু হয়। তবে, কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে সাগর থেকে আনা লবণাক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া যেখানে ম্যাগাটন ব্যবহারের কথা ছিল, সেখানে মাত্র দুই ফুট বালি দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। সড়কে কংক্রিটও সঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা হেফাজ উদ্দিন মানিক বলেন, ‘আমি এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলমকে ভিডিও পাঠিয়েছি। জলকদর খালে বলগেট থেকে আনলোড করা লবণাক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে।’
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বদিউল আলম সড়কের (বাংলাবাজার-খাটখালী সড়ক) ৮৪ লাখ ৬২ হাজার ২০৫ টাকা বরাদ্দের ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়ক সংস্কার কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে বাপ্পী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইফরাদ বিন মুনীর বলেন, ‘লবণাক্ত বালু ব্যবহারের সুযোগ নেই। কার্যাদেশ অনুযায়ী আমরা ঠিকাদার থেকে কাজ বুঝে নেব। স্থানীয়দের কাছ থেকে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে আমি সরজমিনে উপ-প্রকৌশলী মাহবুব আলমকে পাঠিয়েছি।’
বাপ্পী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বাপ্পী বলেন, ‘বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জিনিসপত্রের দাম বেশি। এটা লস প্রজেক্ট। আমি কাজ ফেলে অনেক আগে চলে আসতে চাচ্ছিলাম। স্থানীয়দের চলাফেরা করতে কষ্ট হচ্ছে। তাই আমি কাজটা করছি।’
প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কোন জায়গায় লবণাক্ত বালি ছাড়া কাজ হচ্ছে বলেন? সব জায়গায় হচ্ছে। এখন তো লবনাক্ত বালিও পাওয়া যাচ্ছে না।’
এদিকে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
/মহু