সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ মোট আটজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৮ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভৈরবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, পারভীন আক্তার (২৪), খাদিজা আক্তার (২৬), মেহেরুন্নেছা বেগম (৪০), মরিয়ম বিবি (৪৫), আলমগীর হোসেন (৩৩), গোলাম বারী (৫২), রবিউল ইসলাম (৩০) ও মনিরুল ইসলাম (৪৪)।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চিংড়ি ঘের দখল ও মাছ লুটকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনারুল এবং তার ভাই সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনিরুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিগত সরকারের সময়ে তাদের জমি আনারুলের পরিবার দখল করে নেয়। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে গেলে তারা জমি ফিরে পান এবং সেখানে চিংড়ি চাষ শুরু করেন। সম্প্রতি আবারও আনারুল ও তার লোকজন ঘের দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে আনারুল, সিরাজুল ও শাহিনুরের নেতৃত্বে আজিজুল, রাশিদুল, আলামিন, দেলওয়ার, ইদ্রিস, সিরাজুল, মাজেদ, ময়নুদ্দীন, আব্দুল্লাহ, সাইদুলসহ ২২-২৩ জনের একটি দল ঘের এলাকায় হামলা চালায় এবং মাছ লুটের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে গোলাম বারী ও রবিউলকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে নারীরা এগিয়ে এলে তাদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আনারুল দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষ তাদের জমি দখল করে চিংড়ি চাষ শুরু করে। জমি উদ্ধারে গেলে সংঘর্ষ হয় এবং প্রতিপক্ষ নিজেরাই নিজেদের আহত করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান বলেন, পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরবিএন