গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয় এবং ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনায় ক্ষতি হয়। সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া ঝড় ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই ঝড়ে পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে, এতে একাধিক সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।
পৌরশহরের মীরগঞ্জ বাজারে একটি বিশাল বটগাছ ভেঙে পড়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে সাব-রেজিস্টার অফিস চত্বরে আরেকটি গাছ ভেঙে দলিল লেখক সমিতির অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষসহ চারটি শ্রেণিকক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিতে কৃষিজমিও ক্ষতির মুখে পড়ে। ভুট্টা, পাকা ধান ও পাটক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। পাশাপাশি মরিচ, বেগুন, পটলসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি, দক্ষিণ ধুমাইটারি, ঝিনিয়া, গোপালচরণ এবং ছাপড়হাটি ইউনিয়নের খামারসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে, আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম বলেন, রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে দেখা যায় বড় গাছ ঘরের ওপর পড়ে গেছে। ঘরের টিন ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, ঝড়ের সময় সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে সবকিছু ভিজে ও নষ্ট হয়ে যায়।
ঝড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, আরও ৬টি হেলে পড়েছে। প্রায় ৩০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে এবং শতাধিক জায়গায় গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৬টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে। ফলে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আব্দুল বারী জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ২১টি টিম কাজ করছে। নতুন খুঁটি আনা হয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ায় কাজ শেষ হতে সময় লাগবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরবিএন