কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘গণহত্যামূলক অবরোধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন পরিকল্পিতভাবে কিউবার জনগণের ওপর ‘সম্মিলিত শাস্তি’ চাপিয়ে দিচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দিয়াজ কানেল বলেন, কিউবার জনগণের ওপর যে সম্মিলিত শাস্তি আরোপ করা হচ্ছে, তা গণহত্যার শামিল। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত এর নিন্দা জানানো এবং যারা এ নীতিকে সমর্থন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
মার্কিন সরকার কিউবার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিচার, জ্বালানি ও যোগাযোগমন্ত্রীর পাশাপাশি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর জবাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, কিউবার রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা সামরিক প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পদই মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণও নেই।
দিয়াজ কানেল আরও বলেন, ওয়াশিংটন কিউবার বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ আরও জোরদার করতে কিউবাবিরোধী প্রচারণা ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, আমরা এমন গণহত্যামূলক অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে যাব, যার লক্ষ্য আমাদের জনগণকে শ্বাসরোধ করে ধ্বংস করা।
তিনি কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ বা বিনিয়োগকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘এটি অনৈতিক, অবৈধ এবং অপরাধমূলক।’ তিনি অভিযোগ করেন, খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ভয় দেখাচ্ছে।
চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র নতুন তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই কিউবা তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে। দেশটিতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানি তেল ও ডিজেলের ঘাটতি চরম আকার ধারণ করেছে।
গত সপ্তাহে কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো জ্বালানি নেই, ডিজেলও প্রায় শেষ।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষে কিউবাই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরবর্তী লক্ষ্য’। তিনি আরও দাবি করেন, কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপ রাষ্ট্রটি ‘খুব শিগগিরই ভেঙে পড়বে’।
/ইউএমএইচ