চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে নিম্নমানের ও মাটিযুক্ত বালি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব, জননিরাপত্তা ও কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লোহাগাড়ায় প্যাকেজ-৩’র আওতাধীন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির মিঠার দোকান এলাকা থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ প্যাকেজ-৩’র আওতায় উন্নয়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের উভয় পাশে ৬ ফুট করে প্রশস্ত করা হবে এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯শ মিটার অংশ ডিভাইডারসহ চারলেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে এম এ এইচ কনস্ট্রাকশন। এ প্যাকেজের বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়নের নামে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। নিম্নমানের ও মাটিযুক্ত বালি ব্যবহারের কারণে কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের প্রান্ত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্বল অংশগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তাদের দাবি, কাজের যথাযথ তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খরচ কমাতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং দুর্বল হওয়ায় ঠিকাদার দায়সারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক শুধু একটি আঞ্চলিক সড়ক নয়; এটি দেশের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজে যদি অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়, তবে তা বড় ধরনের দুর্নীতি ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
গত রোববার (১৭ মে) চুনতি ইউনিয়নের খানদিঘী এলাকাসহ একাধিক স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে ব্যবহৃত অধিকাংশ বালিই ছিল মাটিযুক্ত ও নিম্নমানের। কোথাও কোথাও শুকনো বালির পরিবর্তে ভেজা বালি দিয়ে ভরাট কাজ করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মহাসড়কে সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিম্নমানের কাজ হলে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নুর ইসলাম বলেন, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে নিম্নমানের কোনো সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বালির সংকট এবং ঈদুল আজহার আগে সড়কের একপাশের কাজ শেষ করার তাগিদ থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর মাটিযুক্ত বালি অপসারণ করা হয়েছে।
আরবিএন