লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে টাকা ও পৈতৃক সম্পত্তির লোভে জন্মদাতা পিতাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পাষণ্ড দুই ছেলে ও স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধকে চার দিন পর মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে রামগতি উপজেলার ২ নম্বর চরবাদাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধের নাম মিলন মিয়া।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য মিলন মিয়ার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তার দুই ছেলে ও স্ত্রী। গত শুক্রবার বড় ছেলে সোহাগ, ছোট ছেলে রিয়াজ এবং স্ত্রী পান্না আক্তার মিলে লাঠিসোটা দিয়ে মিলন মিয়ার ওপর হামলা চালায়। এতে তার হাত ও পা ভেঙে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে গুরুতর আহত মিলন মিয়াকে শুক্রবার থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘরের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের বিভ্রান্ত করতে তার বিরুদ্ধে ‘পরকীয়া’র অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী চরবাদাম ইউনিয়নের ওই বাড়িতে গিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত মিলন মিয়াকে দেখতে পান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, বাবা, তোমরা আমাকে বাঁচাও। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য আমার হাত-পা ভেঙে তালা মেরে রাখছে।
পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ানকে অবহিত করলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পুলিশ গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে মিলন মিয়াকে উদ্ধার করে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে অসহায় পিতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্পত্তির জন্য সন্তান কর্তৃক পিতার ওপর এমন নির্যাতন অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
আরবিএন