লিচুর রাজধানী খ্যাত পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ফলন হয়েছে। এতে মৌসুমের শুরুতেই হাটে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের দেশি লিচু। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারী ও ক্রেতারা হাটে আসছেন, ফলে জমে উঠেছে লিচুর বাজার। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পাবনা অঞ্চলে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে খুশি চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে আগাম জাতের দেশি টক-মিষ্টি লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। হাটে পাইকাররা পছন্দমতো লিচু কিনছেন। ফলে পাবনা আওতাপাড়া ও জয়নগর-শিমুলতলা লিচুর হাট মৌসুমের শুরু থেকেই জমজমাট হয়ে উঠেছে।
লিচুর বাগান মালিক ও চাষিরা জানান, ফল রক্ষায় অনেকেই কারেন্ট জাল ব্যবহার করছেন। এতে প্রতিদিন শত শত পাখি জালে আটকে মারা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পাখিপ্রেমীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা লিচু উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা। এই উপজেলাতেই সিংহভাগ লিচুর আবাদ হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ফলন বিপর্যয়ে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়লেও এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে লাভের আশা করছেন।
লিচুর মৌসুমে ঈশ্বরদী অঞ্চলের সড়কের দুই পাশে চোখে পড়ে অসংখ্য লিচু বাগান। গাছে গাছে ঝুলছে হলুদ-লালচে রসালো লিচু। রং ও পরিপক্বতা অনুযায়ী চাষিরা ফল সংগ্রহ করছেন। স্বল্প সময়ের এই মৌসুমী ফল দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
মৌসুমের শুরুতে দেশি আটি ও মোজাফফর জাতের টক-মিষ্টি লিচু বাজারে উঠছে। এরপর বাজারে আসবে বোম্বাই জাতের লিচু। পরবর্তী সময়ে চায়না থ্রি ও চায়না ফোর জাতের লিচুও পাওয়া যাবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুমে লিচু দুই থেকে তিন মাস বাজারে পাওয়া যাবে।
ঈশ্বরদী উপজেলার আওতাপাড়া ও জয় নগর হাটে প্রতিদিন ভোর থেকে লিচুর হাট বসছে। জেলার আওতাপাড়া, চরগড়গড়ি, সলিমপুর, দাপুনিয়া, বাঁশের বাদা, দাশুড়িয়া, আলহাজ্ব, সাহাপুর, মিরকামারি, জয়নগর, শিমুল তলা-এই গ্রামগুলোতে কয়েক হাজার লিচুর বাগান রয়েছে।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোঃ রাফিউল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশি লিচুর পাশাপাশি বোম্বাই জাতের লিচুও বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কৃষক, ক্রেতা ও ব্যবসায়ী সবাই এতে খুশি। গত বছরের ক্ষতি এবার কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
এদিকে বাদুরের হাত থেকে লিচু রক্ষায় বাগান মালিক ও চাষিরা কারেন্ট জাল ব্যবহার করছেন। আর প্রতিদিন শতশত পাখির মৃত্যু হচ্ছে জালে আটকে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য প্রশাসনের হস্তোক্ষেপ কামনা করেছেন পাখি প্রেমীরা।
লিচু রক্ষায় কারেন্ট জাল ব্যবহার করে পাখি নিধন না করে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, লিচু রক্ষা করতে গিয়ে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে পাখি হত্যা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বিষয়টি নজরদারি করছে যাতে কোনোভাবেই পাখি হত্যা না হয়।
বর্তমানে বাজারে লিচুর দাম মানভেদে ৮০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আরবিএন