টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এলজিইডির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারি খাল থেকে মাটি কেটে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি রাতের আঁধারে ওই মাটির একটি বড় অংশ অন্যত্র বিক্রিও করা হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, ‘কাশেম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলজিইডির আওতায় সড়ক নির্মাণের কাজ পেলেও পরে কাজটি স্থানীয় জহির দেওয়ান নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনিই কাজটি পরিচালনা করছেন।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পাশে জামুর্কি জিসি-মহেড়া ইউপিসি সড়কের ৪+৬৩৪ থেকে ৫+৩৭৬ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ৭৩০ ঘনমিটার মাটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৬৬ লাখ ৭৭ হাজার ৪৮৪ টাকা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, মাটির জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাল থেকে বিনামূল্যে মাটি কেটে এনে সড়কে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় কিছু মাটি সড়কে ফেলা হলেও অধিকাংশ মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনিরুল সাজ রিজন বিভিন্ন দপ্তরে ১৬ হাজার ৪০৭ ঘনমিটার মাটি কাটার অনুমতি চেয়ে চিঠি দেন।
তবে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর লিখিত অনুমতি দেয়নি বলে জানা গেছে। এরপরও এলজিইডির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে খাল থেকে মাটি কাটার কাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে হাট ফতেপুর থেকে মহেড়ার ভাতকুড়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলছে।
এ কাজের দায়িত্ব পায় ‘ওমর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
খনন কাজের তত্ত্বাবধানে থাকা স্থানীয় যুবদল নেতা নাজমুল হাসান বলেন, ঠিকাদারের লোকজন তার কাছে কয়েকটি চিঠি দেন। এরপর থেকেই এলজিইডির সহযোগিতায় দিন-রাত খাল থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।
এলজিইডির টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংশ্লিষ্ট সড়ক প্রকল্পে মাটির বরাদ্দ রয়েছে। ঠিকাদার কোথা থেকে মাটি আনবেন, সেটি তার বিষয়। তবে সরকারি খাল থেকে মাটি কাটার দায় উপজেলা প্রশাসনের।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি খাল থেকেই মাটি নেওয়া হয়, তাহলে মাটির জন্য আলাদা বরাদ্দ কেন রাখা হয়েছে?
কাশেম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু আহম্মেদ কাশেম বলেন, তিনি কাজটি জহির দেওয়ানের কাছে হস্তান্তর করেছেন। মাটি কোথা থেকে আনা হচ্ছে, তা তিনি জানেন না।
তবে শুরুতে মাটির জন্য প্রায় ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও পরে তা কমিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিকভাবে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী তাকে জানিয়েছিলেন, প্রকল্পে মাটির জন্য অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ নেই। পরে যদি বরাদ্দ থাকার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন দাবি করেন, এলজিইডির সড়ক প্রকল্পে শ্রমিকের খরচ ছাড়া আলাদাভাবে মাটি কেনার জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয় না।
উল্লেখ্য, এর আগেও একই ইউনিয়নের হাট ফতেপুর এলাকায় প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটার সড়ক মেরামত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কাজ শেষ হওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।
/এসএকে