মাগুরার শালিখা উপজেলায় এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় খুশি বাগান মালিক ও চাষিরা। প্রতি বছরই উপজেলায় বাড়ছে লিচু বাগানের সংখ্যা। রসালো এই মৌসুমি ফল অনেকের কাছেই ‘রসগোল্লা’ নামে পরিচিত। এবার মধুমাসে লিচুর ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লিচু গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর শালিখার লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে লিচু চাষ।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ইতোমধ্যে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি ফল লিচু। ক্রেতাদের কাছেও এর চাহিদা বেশ ভালো। বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
লিচু বাগান সাধারণত তিন ধাপে বিক্রি হয়। প্রথমে বাগান মালিকরা পরিচর্যা করেন। ফুল ও গুটি আসার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বাগান বিক্রি করা হয়। পরে আবার সেটি অন্য ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি হয়। সবশেষে পূর্ণাঙ্গ লিচু হলে দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই-তিন বছরের তুলনায় এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে তীব্র রোদ ও কম বৃষ্টির কারণে লিচুর আকার কিছুটা ছোট হয়েছে। তবুও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট ব্যবসায়ী ও চাষিরা।
বাগানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। গাছ থেকে লিচু পেড়ে বাগানে জড়ো করা হচ্ছে। সেখানে ছোট-বড় ও লাল-সবুজ রঙের লিচু আলাদা করে বাছাই চলছে। রং ও আকার অনুযায়ী আঁটি বাঁধার কাজ করছেন শ্রমিকরা। ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে যত্নসহকারে প্রস্তুত করা হচ্ছে লিচু।
শালিখা উপজেলার ভাটোয়াইল গ্রামের লিচু চাষি মো. লিটন মোল্যা জানান, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লিচু কাঙ্ক্ষিত আকারের চেয়ে কিছুটা ছোট হয়েছে। তবে ফলন বেশি হওয়ায় লাভের আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাদুড়, কাক ও বুলবুলির উপদ্রব থেকে লিচু রক্ষা করতে বাগানে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঁশ ও টিনের তৈরি বিশেষ শব্দযন্ত্র বাজানো হচ্ছে এবং রাতে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হচ্ছে। তার বাগানে ৩২টি লিচু গাছ রয়েছে এবং প্রতিটি গাছে প্রচুর লিচু ধরেছে। ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে প্রতি ১০০ লিচু ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় কিনে নিচ্ছেন।
উপজেলার শতখালী গ্রামের চাষি মো. জসিম উদ্দিন জানান, তার বাগানে ৭৫টি লিচু গাছ রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। লিচু ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর লিচু ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে এবার তীব্র গরম থাকলেও আবহাওয়া অনেকটাই লিচুর অনুকূলে ছিল। ফলে অন্য বছরের তুলনায় বেশি দামে লিচু বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ লিচু ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল হাসনাত বলেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। তিনি জানান, লিচু বর্তমানে একটি লাভজনক বাণিজ্যিক ফল হিসেবে পরিচিত। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় ৪৩ হেক্টর জমিতে ১৪৭টি বাগানে লিচুর চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৬ মেট্রিক টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই হিসাবে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫৮ মেট্রিক টন। তবে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
আরবিএন