বাংলাদেশ ক্রিকেটের ড্রেসিংরুমে তিনি শুধু একজন কোচ নন, অনেক ক্রিকেটারের কাছে অভিভাবকের মতোও। বছরের পর বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজ করে অসংখ্য ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার গড়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আবার ফিরিয়ে এনেছিল জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে।
২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলে যোগ দেওয়া এই অভিজ্ঞ কোচ এবার ১৮ মাসের অধ্যায়ের ইতি টানলেন। তবে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম ছাড়লেও বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না তিনি। নতুন মিশন শুরু হচ্ছে বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগ নিয়ে।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের নতুন দায়িত্ব, জাতীয় দল ছাড়ার অনুভূতি এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সালাউদ্দিন।
জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়াকে কোনো হতাশা হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং যেখানে কাজ করে আনন্দ পাবেন, সেখানেই নিজের সেরাটা দিতে চান বলে জানালেন এই কোচ।
সালাউদ্দিন বলেন, ‘পেছন থেকে সাপোর্ট করতে পারলেও যতটুকু পারি করব, না পারলে করব না। আমি কোনো দিন বলিনি আমাকে জাতীয় দলের কোচ বানাতেই হবে। আপনারাই বলেছেন, আপনারাই বানিয়েছেন। দিনশেষে আমি কোচ, যেখানে কাজ করে মজা পাব সেখানেই করব।’
নিজের স্বভাবসুলভ শান্ত ভঙ্গিতেই তিনি যোগ করেন, ‘আমি এমন একটা মানুষ, আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমি কখনো আক্ষেপ নিয়ে বাঁচি না।’
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার সময়টাকে অবশ্য দারুণ উপভোগ করেছেন সালাউদ্দিন। তবে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম ছাড়লেও ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন না বলেই মনে করেন তিনি, ‘আমি তো বাংলাদেশ-স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। ওরা এখানে ক্রিকেট খেলবে, আমি এখানেই থাকব, কাছাকাছিই থাকব। বেশি দূরে যাচ্ছি না তো। মিস করার তেমন কিছু নেই।’
তবে ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা হয়তো কিছুটা অনুভব করবেন বলে জানালেন অভিজ্ঞ এই কোচ, ‘হয়তো ড্রেসিংরুমের ভেতরটা মিস করতে হতে পারে। সময়গুলো ভালো ছিল। কোচিং তো আমাকে করতেই হবে। ওরাও আমার কাছে আবার আসবে। টাইগার্স নেই এখন, আমার অধীনেই চলে আসবে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়েও নিজের ভাবনার কথা বলেছেন সালাউদ্দিন।
তার মতে, দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ‘মূল লক্ষ্য হলো, দেশের মাটিতে যতগুলো টেস্ট আছে, সেগুলোতে যেন আমরা না হারি। যদি আমরা তা পারি এবং বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সিরিজে দুয়েকটা টেস্ট জিততে পারি, তা হলে মনে হয় আমরা শীর্ষ চারে জায়গা করে নিতে পারব।’
তার বিশ্বাস, সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেট নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, ‘সেটি করতে পারলে অনেক বড় একটা অর্জন হবে।’