পাবনা মেডিকেল কলেজের নির্মাণাধীন প্রকল্পে চাঁদার দাবিতে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর এবং দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কিলার মাসুদ’সহ তিন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন, মামলার প্রধান আসামি ও জেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার মাসুদ (৩৫), সজল আহমেদ (৩২) এবং নকশাল ইসলাম (৩৫)।
মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দুপুরে ওই সন্ত্রাসীরা নির্মাণাধীন মেডিকেল কলেজ প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করে চলমান কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সাজিন কনস্ট্রাকশন’-এর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যানেজার মো. রাকিবুর রহমানসহ সাধারণ শ্রমিকেরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার পরদিন, ২০ মে (বুধবার) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রাকিবুর রহমান বাদী হয়ে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর বিশেষ নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি কিলার মাসুদসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আর জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এই চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই