সত্যের হাতের বীণা

ফরিদ আহমদ দুলাল

সাহিত্য

শাশ্বত বাংলার লোকমানসের আবহমান কালের সুর যদি আমরা অনুসন্ধান করতে চাই, সহজেই আমাদের স্মরণে আসবে- ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার

2026-05-22T18:51:39+00:00
2026-05-22T18:51:39+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সাহিত্য
কাজী নজরুল ইসলাম
সত্যের হাতের বীণা
ফরিদ আহমদ দুলাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
শাশ্বত বাংলার লোকমানসের আবহমান কালের সুর যদি আমরা অনুসন্ধান করতে চাই, সহজেই আমাদের স্মরণে আসবে- ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই।’ অথবা- ‘নানান বরণ গাভীরে ভাই একই বরণ দুধ/ জগৎ ভরমিয়া দেখি একই মায়ের পুত।’ 

লোকবাংলার সাধারণ মানুষের এ আকুতি আমরা শুনি বাউল সাধকদের গানে; একই পরম্পরা আমরা দেখি মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে; নজরুলের কবিতায় মানবতা নানা রূপ বরং বহুমাত্রিকতা নিয়ে উচ্চারিত হতে দেখি। লালন যেমন তার গানে বলেন- ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ পাবি/ মানুষ ছাড়া খ্যাপারে তুই কুল হারাবি॥’ একইভাবে নজরুলের কবিতায় সর্বধর্মীয় ঐক্যের বাণী আমাদের পথ দেখায়-

এই সে স্বর্গ, এই সে বেহেশত, এখানে বিভেদ নাই,
যত হাতাহাতি হাতে হাত রেখে মিলিয়াছে ভাই ভাই।

নজরুল স্বপ্নের পৃথিবীতে মানুষের সম্মিলন দেখেছে তারই ছবি তিনি এঁকেছেন এ কবিতায়।

ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর পৈশাচিকতা ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ‘দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ’ দেখেছে বিশ্ব। এমনকি জাতিসংঘকেও দেখেছি ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ হয়ে শক্তির কাছে মাথা নোয়াতে। ইরাক পুড়েছে, লেবানন পুড়েছে, প্যালেস্টাইনে জ্বলেছে আগুন; আফগানিস্তান পুড়েছে, বৈরুত পুড়েছে বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ। পৃথিবীর দেশে দেশে এত যে তাণ্ডব, কোনো প্রতিকার পেয়েছে মানুষ? পায়নি। বিশ্বের বিবেকবান প্রতিটি মানুষ গুমড়ে কেঁদেছে, সামান্য প্রতিবাদ হলেও কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।

আমরা দেখেছি পৃথিবীর প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষ হত্যা-নৈরাজ্য-যুদ্ধ এবং রক্তপাতবিরোধী। ইঙ্গ-মার্কিন হামলায় যখন পুড়ছে ইরাক, তখন খোদ আমেরিকায়ও যুদ্ধবিরোধী মিছিল হয়েছে, কিন্তু হত্যাযজ্ঞ থামেনি ইরাকে। প্যালেস্টাইনে যখন নিজস্ব ভূ-খণ্ডের দাবিতে লড়ছে মানুষ, ইসরাইলি বাহিনীর অনৈতিক যুদ্ধকে কখনো প্রকাশ্যে কখনো পরোক্ষে সমর্থন করেছে আমেরিকা। নিরস্ত্র-বঞ্চিত মানুষ কখনো কোনো পরাশক্তির সমর্থন পায়নি। 

যুদ্ধ থামেনি, থামেনি রক্তপাত; আগ্রাসন থমেনি, থামেনি কান্নার রোল। এই সভ্যতা, এই অগ্রগতি নিয়ে আমরা বড়াই করি! বিশ্বের প্রতিটি মায়ের অশ্রু, প্রতিটি বোনের আর্তনাদ, প্রতিটি শিশুর চিৎকার বিশ্ব বিবেককে জাগিয়ে তোলে না? নিশ্চয়ই জাগিয়ে তোলে। আমাদের বুকে তখন নজরুলের মানবতাবাদী গান বেজে ওঠে-

দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার
ওহে লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে কান্ডারি হুঁশিয়ার!

নজরুলের সমকালে তার কবিতা যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে- এ কথা যেমন সত্য, তেমনি তিনি সমালোচিত হয়েছেন নানাভাবে। স্বধর্মীয় মৌলবাদীরা তাকে কাফের ফতোয়া দিয়েছে, মুসলমান সমাজ থেকে তাকে খারিজ করতে চেয়েছে কেউ কেউ। মুন্সী মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন তো ১৯২৯ সালে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে ‘লোকটা মানুষ না শয়তান’ 

শিরোনামে লিখেছেন-
‘এই উদ্দাম যুবক যে ইসলামি শিক্ষা আদৌ পায় নাই, তাহা ইহার লেখার পত্রে পত্রে ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পাইয়াছে। হিন্দুয়ানী মান্দায় ইহার মস্তিষ্ক পরিপূর্ণ। হতভাগ্য যুবকটি ধর্মজ্ঞানসম্পন্ন মুসলমানদের সংসর্গ কখনো লাভ করে নাই। দুঃখের বিষয় অজ্ঞান যুবক এখনও আপনাকে মুসলমান বলিয়া পরিচয় দিতেছে।... খোদাদ্রোহী নরাধম নাস্তিকদিগকে পরাজিত করিয়াছে। লোকটা শয়তানের পূর্ণাবতার। 

ইহার কথা আলোচনা করিতেও ঘৃণাবোধ হয়। এই রূপ ধর্মদ্রোহী কুবিশ্বাসীকে মুসলমান বলিয়া গ্রহণ করা যাইতে পারে না। পুনর্জন্মে বিশ্বাসী কাফের বলিয়া পরিগণিত হইবে। খাঁটি ইসলামী আমলদারী থাকিলে এই নরাধম ফেরাউন, নমরুদকে শূলবিদ্ধ করা হইত বা উহার মুণ্ডুপাত করা হইত নিশ্চয়।’

আর নজরুল সম্পর্কে মৌলবাদীদের চিন্তাকে নজরুল নিজে উপস্থাপন করেন এভাবে-

মৌ-লোভী যত মৌলবী আর মোল-লারা কন হাত নেড়ে,
দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মের!
ফতোয়া দিলাম-কাফের কাজী ও,
যদিও শহিদ হইতে রাজি ও!
‘আমপার’-পড়া হামবড়া মোরা এখনও বেড়াই ভাত মেরে।

সব বিরোধের মুখে ছাই চাপা দিয়ে নজরুল সাধারণ বাঙালির অন্তর ছুঁয়েছিলেন নিজের যোগ্যতায়। সবকিছুর পরও সাধারণের হৃদয় গভীরে কবি নজরুলের যে দীপ্ত অবস্থান তাকে টলানো যায়নি।

নজরুলের কবিতা স্বচ্ছ-মুক্ত-সহজ-সাহসী এবং ঋজু। নজরুলের কবিতা পড়ে সাধারণ পাঠককেও কোনো বোদ্ধা সমালোচকের শরণাপন্ন হতে হয় না। পাঠক নিজে নিজেই বুঝে নিতে পারেন কবি কী বলতে চান। সে অর্থে নজরুল সাধারণ মানুষের কবি। নজরুলের কবিতায় সাধারণ মানুষের নানা প্রসঙ্গ উচ্চকিত হয়েছে অবলীলাক্রমে। 

সাধারণের ভাষা-সাধারণের জীবন বিধৃত হয়েছে নজরুল কাব্যে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ঋদ্ধ লোকবাংলার গ্রামীণ সমাজ, নজরুল কাব্যও সরাসরি সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী চেতনায় ঋদ্ধ। নজরুলের লড়াই শুধু মৌলবাদ বিরোধী নয়, তাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধেও।

মুসলমানদের ভারতবর্ষে আগমনের পর থেকেই ইসলামের সাম্য ও মানবতা এখানে মুসলমানদের বিজয় কেতন উড়িয়েছে। দলে দলে মানুষ দীক্ষিত হয়েছে ইসলামে-বিশেষত নিম্নবর্ণের নির্যাতিত হিন্দুরা অধিক হারে মুসলমান হওয়ায়, সংগত কারণেই উচ্চবর্ণের সম্ভ্রান্ত হিন্দুদের চোখে মুসলমান সমাজ হয়েছে অচ্ছুত-অপ্রিয়। 

ভারতবর্ষে ইসলামের বিস্তারের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মুসলিম শাসন। ক্ষমতাচ্যুত হিন্দুদের শত্রু হয়েছে মুসলমান। পরবর্তীকালে ইংরেজদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি’ হিন্দুদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে গয়রহভাবে সব হিন্দুর চোখে মুসলমান হয়েছে অচ্ছুত মুসলমানের শত্রু হয়ে হিন্দু।

নজরুল সাহিত্যে শ্যামা সংগীত, কীর্তন ও হিন্দু- পুরাণপ্রীতির পাশাপাশি ইসলামি মূল্যবোধ ও জাগরণের কথা উচ্চারিত হয়েছে; যা নজরুল সাহিত্য আলোচনায় বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য। একদিকে নজরুল লেখেন-

আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
 আমি হল বলরাম-স্কন্ধে,
আমি উপড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।
 অন্যদিকে এসব পঙক্তির পাশাপাশি এসেছে মোল্লাতন্ত্রের বিপক্ষে আঘাত-
 মানুষের ঘৃণা করি’
 ও’ কা’রা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি
 ও’ মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোড় ক’রে কেড়ে,
 যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষের মেরে
 পুজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল!- মূর্খরা সব শোন,
 মানুষ এনেছে গ্রন্থ : গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো। 

হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ এ দেশের সমাজ-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে চরম আকার ধারণ করেছিল। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পৃথকভাবে চলায় সচেষ্ট থেকেছে, ফলে স্বদেশ প্রীতির পরিবর্তে গড়ে উঠেছে স্বধর্ম প্রীতি। মুসলিম সমাজ প্রাচীন ও মধ্যযুগের গৌরবদীপ্ত ভারতীয় সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে হিন্দু বলে, অন্যদিকে হিন্দুরাও ইসলামি ঐতিহ্য ও সাম্যের সংস্কৃতিকে মেøচ্ছ-যবন বলে ঘৃণা করেছে। নজরুল সেখানে বলেছেন, ‘মোর এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।/ মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ॥’ 

একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় ও ইসলামি ঐতিহ্যকে সফলভাবে উপস্থাপন করে হয়ে উঠেছেন সাধারণের নয়ন-মণি। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ইহুদি সব সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যকে নজরুল পাশাপাশি উপস্থাপন করেছেন-কবিতাকে করেছেন সর্বজনীন। যে নজরুল লেখেন, ‘তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে/মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে/ যেন ঊষার কোলে রাঙা রবি দোলে॥’; সেই তিনিই লেখেন, ‘ওরে আলয়ে আজ মহালয়া, মা এসেছে ঘর।/ তোরা উলু দে রে শঙ্খ বাজা, প্রদীপ তুলে ধর॥’। যে নজরুল লেখেন, ‘হেরা হতে হেলে দুলে/নুরানি তনু ও কে আসে, হায়!/ সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা/ খুলে খুলে যায়-/ সে যে আমার কামলিওয়ালা কামলিওয়ালা॥’।

নজরুলের শ্যামাসংগীত যেমন আমাদের সংগীতে বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে; তেমনি তার ইসলামি গানও কোনো মুসলমান কবি তো নয়-ই কোনো হিন্দু কবির কলমেও নজরুলের শ্যামা সংগীতের মতো সার্থক পঙ্ক্তি আমরা পাইনি। শ্যামা সংগীত রচনায় নজরুলের সাফল্য ঈর্ষণীয়।

 আমার কালো মেয়ের পায়ের তলায়
 দেখে যা আলোর নাচন।
 মায়ের রূপ দেখে দেয় বুক পেতে শিব
 যার হাতে মরণ বাঁচন॥
 অন্যদিকে-
কোকিল যেমন গেয়ে ওঠে ফাগুন আসার আভাস পেয়ে
 তেমনি করে হরষিত ফেরেশতা সব উঠলো গেয়ে,
 (না’তে রাসুল)

এমন অসংখ্য হৃদয় ছোঁয়া গান দিয়ে নজরুল বাঙালি শ্রোতার চোখে প্রিয় হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বিবেচনায় বাঙালি কবি-দুজন, একজন রবীন্দ্রনাথ, অন্যজন নজরুল।

‘রাজবন্দির জবানবন্দি’তে নজরুল বলেন-

আমি পরম আত্মবিশ্বাসী, তাই যা অন্যায় বলে বুঝেছি, তাকে অন্যায় বলেছি, অত্যাচারকে অত্যাচার বলেছি, মিথ্যাকে মিথ্যা বলেছি,- কাহারো তোষামোদ করি নাই। প্রশংসার এবং প্রসাদের লোভে কাহারো পিছনে পোঁ ধরি নাই। আমি শুধু রাজার অন্যায়ের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করি নাই। সমাজের, জাতির, দেশের বিরুদ্ধে আমার সত্য তরবারী তীব্র আক্রমণ সমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। 

তার জন্যে ঘরে বাইরে বিদ্রুপ, অপমান, লাঞ্ছনা আমার ওপর অপর্যাপ্ত পরিমাণে বর্ষিত হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুর ভয়েই নিজের সত্যকে, আপন ভগবানকে হীন করি নাই। লোভের বশবর্তী হয়ে আত্মোপলব্ধিকে বিক্রয় করি নাই, কেননা আমি যে ভগবানের প্রিয়; সত্যের হাতের বীণা। আমি যে কবি, আমার আত্মা যে সত্যদ্রষ্টা ঋষির আত্মা। আমি অজানা অসীম পূর্ণতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি।

এবাবেই নজরুল তার বিশ্বাস এবং সত্য উচ্চারণের শক্তি দিয়ে কবিতায়-গানে সাধারণ বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে দিয়েছিলেন বলেই তাত্ত্বিক-সমালোচকরা যেভাবেই তাকে ব্যাখ্যা করুন তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার ঘরের মানুষ। লোকবাংলার আবহমান কালের যে আকাক্সক্ষা কবি নজরুল যেন তার কবিতা-গান আর জীবনাচারে তাই প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। নজরুল যেন সমস্ত জীবন এক অসম্ভবকে সম্ভব করার সংগ্রাম করে গেছেন।

/কেএইচও 


  বিষয়:   সত্য  বীণা  কাজী নজরুল ইসলাম 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: