চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কৃষকদের জীবনযাত্রায় ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। আগে যেখানে জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত খালের কারণে কৃষিকাজ ছিল অনিশ্চিত, এখন সেখানে খাল পুনঃখননের ফলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একসময় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সময়মতো জমি চাষ করা যেত না। অনেক ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হয়ে যেত। এতে কৃষকদের উৎপাদন কমে গিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতেন।
বর্তমানে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর থেকে তুলপাই পর্যন্ত প্রায় ৩.৮ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ৬০ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এই খালটি সহদেবপুর, নাংলা, দোজানা, ফতেপুর ও তুলপাই এলাকার কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, খালটি সম্পূর্ণভাবে খনন হলে বর্ষাকালে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যাবে। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থাও সহজ হবে। ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে।
একাধিক কৃষক জানান, আগে সময়মতো চাষাবাদ করা কঠিন ছিল। অতিরিক্ত পানির কারণে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এখন খাল খননের ফলে সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে তারা আশাবাদী।
সহদেবপুর গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই খাল খননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কাজ শুরু হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট এবং আশা করছেন এতে ফসল উৎপাদন অনেক বাড়বে।
ঠিকাদার মাসুদ রানা মিয়াজী জানান, সরকারের নীতিমালা ও বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ চলছে। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই তাদের লক্ষ্য।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আলীম লিটন বলেন, খাল পুনর্খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়বে, যা খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।
/এসএকে