শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডসহ দেশজুড়ে বাড়তে থাকা শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় শিশু অধিকারভিত্তিক সংগঠন ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্ক ফোর্স (এনসিটিএফ)। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সিরাজগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ মে) সকালে সংগঠনটির সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যরা প্রথমে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন। পরে একই দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিটিএফ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি জান্নাতুল শিফা, তাসনিয়া আজাদ তিশা, আজিম মোহাম্মদ নুর, প্রিয়ন্তী সরকারসহ অন্যান্য সদস্যরা।
সংগঠনের নেতারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাজধানীর মিরপুরে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালের প্রথম চার মাসে ১৯৯ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার শিকার। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার শিশুদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।
এনসিটিএফ শিশুনির্যাতন প্রতিরোধে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় করা, শিশুদের গুড টাচ ও ব্যাড টাচ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে শিশুদের প্রশিক্ষণ এবং শিশু অধিকার রক্ষায় আলাদা অধিদফতর গঠন।
সময়ের আলো/জোই