আফ্রিকায় নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় নিজের দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে, বর্তমানে ওই রাষ্ট্রগুলোতে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই পরিস্থিতিকে ইতোমধ্যে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার এই সতর্কবার্তা জারি করল। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানে থাকা বা ভ্রমণরত ভারতীয়দের স্থানীয় প্রশাসনের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই তিন দেশে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ভারতে এখন পর্যন্ত ইবোলা ভাইরাসের নতুন 'বান্ডিবুগিও' স্ট্রেইনে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) এই নতুন স্ট্রেইনের সংক্রমণকে ‘মহাদেশীয় নিরাপত্তাজনিত জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে গণ্য করেছে। গত ২২ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কমিটির দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী, আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে আসা জ্বরে আক্রান্ত যাত্রীদের পরীক্ষা ও স্ক্রিনিংয়ের জন্য প্রতিটি প্রবেশপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কঙ্গো ও উগান্ডার পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ায় দক্ষিণ সুদানও এই মুহূর্তে তীব্র সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত জ্বর, যা ‘বান্ডিবুগিও’ স্ট্রেইনের মাধ্যমে ছড়ায়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। আশঙ্কার বিষয় হলো, বর্তমানে ইবোলার এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনটি প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই।
সময়ের আলো/জেডি