বিএনপি, গণঅভ্যুত্থান ও সংসদীয় রাজনীতি

ফরহাদ মজহার

সাহিত্য

একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বটে, কিন্তু নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন জনগণের ভোটে বাংলাদেশ

2026-05-24T23:38:18+00:00
2026-05-25T00:49:58+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সাহিত্য
বিএনপি, গণঅভ্যুত্থান ও সংসদীয় রাজনীতি
ফরহাদ মজহার
প্রকাশ: রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম  আপডেট: ২৫.০৫.২০২৬ ১২:৪৯ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বটে, কিন্তু নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন জনগণের ভোটে বাংলাদেশ গণপরিষদ নির্বাচন করতে পারেনি এবং নিজেদের জন্য নিজেরা একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে পারেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের রাষ্ট্র নিজেরা গঠন করতে পারল না। সেনাসমর্থিত উপদেষ্টা সরকারের বৈধতার তর্ক মীমাংসিত নয়, কিন্তু সেই সরকারের অধীনেই গত নির্বাচন হয়েছে এবং বিএনপি এখন ক্ষমতায়। বেগম খালেদা জিয়া বাহাত্তরের সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা প্রণীত নয় বলে নতুন সংবিধান বা গঠনতন্ত্র প্রণয়নের কথা বলেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপি এবং বিএনপির রাজনীতি কি আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ১৯ দফার জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতা না? তা হলে বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ভূরাজনৈতিক বিশাল রূপান্তরের সন্ধিক্ষণে বিএনপির নীতি ও কৌশল কী হতে পারে? তা নিয়ে এখানে দুয়েকটি কথা বলব। আশা করি বিএনপির দায়িত্বশীল নেতা ও কর্মীরা দলের স্বার্থে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করবেন।

বিএনপি ও গণঅভ্যুত্থান

আমরা যে জিজ্ঞাসা হাজির করেছি তার কেন্দ্রে আছে একটি দ্বৈধতা : বিএনপি কি শুধু নির্বাচনি ক্ষমতার দল হয়ে থাকবে, নাকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে জনগণের গাঠনিক ক্ষমতাকে স্বীকার করে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গঠনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব নেবে? 

আমার মূল্যায়ন : বিএনপি যদি বেগম খালেদা খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাবাহিকতা এবং জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ ভাবনাকে সত্যিই ধারণ করতে চায়, তা হলে তাকে কেবল সরকার চালানো নয়, বরং রাষ্ট্র-গঠনকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেকে পুনর্গঠন করার প্রজ্ঞা ও সামর্থ্য প্রদর্শন করতে হবে। সাতচল্লিশের পরে মুসলিম লীগের পতন, বিলয় ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পতন এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী শক্তির কাছে আশ্রয় গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের যে পর্ব শেষ হচ্ছে ইতিহাসের সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপি কী শিক্ষা গ্রহণ করবে?

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন ও গণভোট এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। কিন্তু এখানেই সংকট নিহিত। কারণ বিএনপির নির্বাচনি ম্যানিফেস্টো এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। যদিও রাজনৈতিক দলের ইশতেহার আসলে দলের অঙ্গীকারপত্র বা মানতে বাধ্য কোনো দলিল না। তবু প্রশ্ন তোলা যায় সরকার সনদ বাস্তবায়ন করবে, নাকি নিজের ম্যানিফেস্টো দিয়ে তাকে পুনর্ব্যাখ্যা করবে- এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

তাত্ত্বিকভাবে এই সংকটকে আন্দ্রিয়াস কালিভাসের (অহফৎবধং কধষুাধং) ভাষায় গাঠনিক ক্ষমতা বনাম গঠিত ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বলা যায়। কালিভাস দেখান, গাঠনিক ক্ষমতা আধুনিক গণতন্ত্রের অন্তর-সত্য, কারণ গণতন্ত্র তখনই বাস্তব হয় যখন আইনের অধীন মানুষরাই আইনের লেখক হয়ে ওঠে; অর্থাৎ আইন যাদের ওপর প্রয়োগ হবে, তারাই সম্মিলিতভাবে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের রূপ নির্ধারণ করবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বোডিনীয় (ঔবধহ ইড়ফরহ) ধারণা হচ্ছে ‘সর্বোচ্চ আদেশদানের ক্ষমতা’, এই ধারণা ওপর থেকে হুকুমের মডেল; বিপরীতে গাঠনিক ক্ষমতা হলো নিচ থেকে জনগণের নতুন রাজনৈতিক রূপ গঠনের ক্ষমতা।
এদিক থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের গাঠনিক ক্ষমতার বিস্ফোরণ; কিন্তু ৮ আগস্টের সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বহাল রাখতে গিয়ে হাসিনাহীন হাসিনা ব্যবস্থাই জারি রেখেছে। অর্থাৎ জনগণের গাঠনিক ক্ষমতাকে পুরোনো রাষ্ট্রযন্ত্রের মানকা চিপায় আটকে দিয়েছে। সেনা-সমর্থিত উপদেষ্টা সরকারের বৈধতার প্রশ্ন এই জন্যই মীমাংসিত নয়। নির্বাচন হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু নির্বাচন নিজে গাঠনিক সমস্যার সমাধান না। নির্বাচন গঠিত ক্ষমতার পদ্ধতি; কিন্তু জুলাইয়ের প্রশ্ন ছিল গাঠনিক ক্ষমতার প্রশ্ন : জনগণ কি নিজেদের রাষ্ট্র নিজেরা গঠন করবে?

এখানে বিএনপির সামনে ঐতিহাসিক সুযোগ এবং বিপদ দুটোই আছে। সুযোগ হলো, বিএনপি চাইলে জনগণের গাঠনিক ক্ষমতাকে স্বীকার করে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। বিপদ হলো, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাকে আবার সংসদীয় সার্বভৌমত্বের মোহে ফেলতে পারে। অ্যান্ড্রু আরাতো (অহফৎবি অৎধঃড়) সতর্ক করেছেন- সংবিধান প্রণয়ন এখন সারা দুনিয়ায় শাসন-বদল, বিপ্লব, সমঝোতা, বিচ্ছেদ বা নতুন রাষ্ট্র-গঠনের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে; কিন্তু বৈধতা শুধু ‘কে জিতেছে’ দিয়ে আসে না, বরং ‘কীভাবে’, ‘কার অংশগ্রহণে’, ‘কোন প্রক্রিয়ায়’ গঠনতন্ত্র বানানো হচ্ছে, সেটাই মুখ্য। কালিভাস আরও কঠোরভাবে বলেন, কোনো গঠনতন্ত্র তখনই বৈধ হয় যখন যারা তার অধীন হবে তারা প্রক্রিয়ায় পূর্ণ অংশ নেয়; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সবাইকে বাদ দিয়ে গঠনতন্ত্র তৈরি করে, সেটা গঠন নয়, বরং চাপিয়ে দেওয়া ক্ষমতা।

সুতরাং বিএনপির প্রথম নীতি হওয়া উচিত : সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে গাঠনিক ক্ষমতার বিকল্প বানানো থেকে বিরত থাকা। না, সংসদ সার্বভৌম নয়, গণতন্ত্রে জনগণই সার্বভৌম। অর্থাৎ সংসদকে জনগণের বিকল্প ভাবা যাবে না। দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেলেই জনগণের নামে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জন্মায় না। বরং বিএনপির উচিত জাতীয় পর্যায়ে একটি গণ-গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করা- স্থানীয় পরামর্শসভা, উপজেলা গণশুনানি, পেশাভিত্তিক সভা, শ্রমিক-কৃষক-মাদরাসা-নারী-তরুণ-আদিবাসী-প্রবাসী- সব অংশের অংশগ্রহণে। নতুন গঠনতন্ত্র চাইলে তা সংসদের কমিটি দিয়ে নয়, জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া দিয়ে হতে হবে।

দ্বিতীয় নীতি হওয়া উচিত : খালেদা জিয়ার আপসহীনতার ধারাবাহিকতা মানে প্রতিহিংসা না, রাষ্ট্রনৈতিক দৃঢ়তা বহাল রাখা। আপসহীনতা মানে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে আপস না করা, কিন্তু জনগণের ভিন্ন ভিন্ন অংশের সঙ্গে আলাপের দরজা খোলা রাখা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিচার জরুরি, কিন্তু বিচারকে দলীয় প্রতিশোধে নামিয়ে আনা যাবে না। কারণ আইন যদি প্রতিহিংসার যন্ত্র হয়, তবে নতুন সরকারও পুরোনো রাষ্ট্রের ভাষাতেই কথা বলবে।

তৃতীয় নীতি হওয়া উচিত : জিয়াউর রহমানের ১৯ দফাকে নতুন বাস্তবতায় পুনর্গঠন। ঐতিহাসিকভাবে জিয়ার রাজনীতিতে স্বনির্ভরতা, উৎপাদন, খাল খনন, গ্রাম-উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন ছিল। আজ তা কেবল সেøাগান দিয়ে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, খাদ্যনিরাপত্তা, বৈশ্বিক পুঁজির ঋণ-শৃঙ্খল, ভারত-চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা- এসব বাস্তবতায় ১৯ দফার নতুন পাঠ দরকার। বিএনপির ২০২৬ ম্যানিফেস্টো ১৯ দফা, ভিশন ২০৩০, ৩১ দফা এবং জুলাই সনদের ভিত্তির কথা বলেছে; সেখানে কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, শিক্ষা সংস্কার, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা ও ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মতো প্রতিশ্রুতি এসেছে। এগুলোকে যদি শুধু ম্যানিফেস্টো না রেখে বাস্তব গণ-অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রোগ্রাম বানানো যায়, তা হলে বিএনপি জিয়ার ধারাবাহিকতাকে নতুন অর্থ দিতে পারবে।

চতুর্থ নীতি হওয়া উচিত : বিকেন্দ্রীকরণকে রাষ্ট্রগঠনের কেন্দ্র করা। বাংলাদেশের সমস্যা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক আমলাতন্ত্র না; সমস্যা হলো রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা রাজধানী, মন্ত্রণালয়, দালাল পুঁজি ও প্রকল্পনির্ভর উন্নয়নযন্ত্রে কেন্দ্রীভূত। বিএনপি যদি সত্যিই জনগণের দল হতে চায়, তাকে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার, উপজেলা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, স্থানীয় পরামর্শসভা, স্থানীয় বাজেট শুনানি, নদীভিত্তিক উৎপাদন অঞ্চল, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, লবণাক্ততা-সহিষ্ণু কৃষি, চর অর্থনীতি, পাহাড়ি সম্পদ ও হাওড় ব্যবস্থাপনা- এসবকে ক্ষমতার কেন্দ্রে আনতে হবে। অর্থাৎ উন্নয়ন মানে মেগা প্রকল্প না; উন্নয়ন মানে নদীবাহিত বদ্বীপের ভৌগোলিক জ্ঞানকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়া।

পঞ্চম নীতি হওয়া উচিত : ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ প্রথম, কিন্তু অন্ধ পক্ষগ্রহণ নয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বিএনপির ক্ষমতায় ফেরাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পুনর্সামঞ্জস্যের সম্ভাবনা বলা হচ্ছে; বিশেষত ভারতের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা হাসিনা-যুগ থেকে সরে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে ভারত-বিরোধিতার আবেগে চীন বা আমেরিকার কোলে ওঠা না। বাংলাদেশকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান,ইউরোপ, মুসলিম দুনিয়া- সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে, কিন্তু কোনো সামরিক চুক্তি, করিডোর, বন্দর, ডেটা অবকাঠামো, জ্বালানি প্রকল্প বা ঋণচুক্তি জনগণের আলোচনা ছাড়া করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নামে বিদেশি পুঁজির কাছে জনগণকে বন্ধক রাখা যাবে না।

ষষ্ঠ নীতি হওয়া উচিত : দলকে রাষ্ট্রের ওপর বসানো যাবে না। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের দলরাষ্ট্র মডেলের পুনরাবৃত্তি করে, তবে জুলাইয়ের আকাক্সক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বিএনপি সরকারের সামনে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও জনবিশ্বাস পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জের কথা বলেছে। তাই বিএনপির উচিত দলীয় ক্যাডারনির্ভর প্রশাসন নয়, বরং নাগরিক জবাবদিহি, উন্মুক্ত নিয়োগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন, পুলিশ সংস্কার, বিচার বিভাগের দায়বদ্ধতা এবং দলীয় অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

শেষ কথা হলো, বিএনপি জিয়ার ধারাবাহিকতা দাবি করতে পারে কেবল তখনই, যখন সে ‘শক্তিশালী রাষ্ট্র’ নয়, সচেতন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী গঠনের কর্মসূচি নেয়। আর বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীনতা ধারণ করতে পারে কেবল তখনই, যখন বিএনপি পুরোনো ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে আপস না করে জনগণের অংশগ্রহণে নতুন গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করে। বর্তমান সন্ধিক্ষণে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় কৌশল তাই সরকার চালানো নয়; বরং জনগণকে রাষ্ট্রগঠনের কর্তা হিসেবে ফিরিয়ে আনা।

বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কি?

বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কি? তারা কি গণভ্যুত্থানের শক্তিকে কেবল নির্বাচনি ম্যান্ডেট দিয়ে প্রতিস্থাপন করবে, নাকি সেই গণঅভ্যুত্থানকে পূর্ণ করতে জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়া শুরু করবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং একই দিনে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও পাস হয়েছে- এতে বিএনপি একটি বিরাট রাজনৈতিক ক্ষমতা পেয়েছে, কিন্তু এই ক্ষমতা একই সঙ্গে বিরাট দায়ও তৈরি করেছে।

এই দায়ের প্রথম দিক হলো গঠনতান্ত্রিক। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোট নিজে নিজে গঠনতন্ত্র বদলায়নি; বরং নতুন সংসদকে পরিবর্তনের রাজনৈতিক ম্যান্ডেট দিয়েছে- এমন ব্যাখ্যাও এসেছে। অতএব বিএনপির উচিত হবে না সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সব প্রশ্ন মীমাংসিত ধরে নেওয়া। বরং তাকে বলতে হবে : ‘আমরা ক্ষমতায় এসেছি, কিন্তু জনগণই সার্বভৌম; অতএব নতুন গঠনতন্ত্র জনগণের ব্যাপক আলোচনার মধ্য দিয়েই আসবে।’ এই এক বাক্যই বিএনপিকে পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক দল থেকে রাষ্ট্রগঠনকারী দলে রূপান্তর করতে পারে।

দ্বিতীয় দিক হলো অর্থনীতি। বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প, ঋণ, আমদানি, রেমিট্যান্স, পোশাক শিল্প এবং শহরকেন্দ্রিক সেবা খাতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই মডেলে গ্রামের মানুষ উৎপাদক হলেও সিদ্ধান্তের অংশীদার না; নদী, কৃষি, মাটি, পানি, প্রাণবৈচিত্র্য- এসবকে পরিকল্পনার ভিত্তি বানানো হয় না। বিএনপি যদি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার ‘স্বনির্ভরতা’কে নতুন করে পড়তে চায়, তা হলে তাকে মেগা প্রকল্পের অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উপজেলাভিত্তিক উৎপাদন অর্থনীতিতে যেতে হবে। প্রতিটি উপজেলার নদী, খাল, বিল, চর, বন, পাহাড়, কৃষি, মাছ, গবাদি সম্পদ, স্থানীয় কারিগরি জ্ঞান- এসবের ওপর দাঁড়িয়ে স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করতে হবে। শুধু জিডিপি বাড়ানো নয়, স্থানীয় উৎপাদনশক্তি জাগানোই হবে আসল উন্নয়ন।

তৃতীয় দিক হলো রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা হলো জনগণকে দর্শক বানিয়ে রাষ্ট্র চালানো যায় না। স্থানীয় সরকারকে শুধু রাস্তাঘাট, জন্মনিবন্ধন, সনদপত্রের অফিস করে রাখলে চলবে না। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় পরামর্শসভা, উন্মুক্ত বাজেট, গণশুনানি, স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, পুলিশ-প্রশাসনের ওপর নাগরিক নজরদারি- এসব চালু করতে হবে। রাষ্ট্রের কেন্দ্রীভূত আমলাতন্ত্র ভাঙা ছাড়া গণসার্বভৌমত্ব বাস্তব হয় না।
চতুর্থ দিক হলো বিচার ও নিরাপত্তা। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের রাগকে বিচারবহির্ভূত প্রতিহিংসায় নামিয়ে আনা যাবে না। আবার ‘আইনের শাসন’র নামে পুরোনো ফ্যাসিস্ট বিচার-প্রশাসনিক কাঠামোকেও অক্ষত রাখা যাবে না। তাই বিএনপির নীতি হতে পারে : রাজনৈতিক হত্যা, গুম, নির্যাতন, দুর্নীতি, লুণ্ঠন- সবকিছুর জন্য স্বাধীন সত্য ও ন্যায় কমিশন; বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার; পুলিশকে দলীয় বাহিনী থেকে নাগরিক নিরাপত্তা বাহিনীতে রূপান্তর এবং প্রশাসনকে জনগণের জবাবদিহির আওতায় আনা। নির্বাচনের পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও নতুন সরকারের সামনে দুর্নীতি, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জকে প্রধান প্রশ্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পঞ্চম দিক হলো ভূরাজনীতি। বাংলাদেশ এখন ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপ, মুসলিম দুনিয়া এবং বঙ্গোপসাগরীয় শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে। বিএনপির কৌশল হওয়া উচিত ‘কারও দোসর নয়, সবার সঙ্গে দরকারি সম্পর্ক’- কিন্তু জনগণের অগোচরে কোনো সামরিক, বন্দর, করিডোর, জ্বালানি, ঋণ বা নিরাপত্তা চুক্তি নয়। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নামে বিদেশি পুঁজির কাছে জনগণের ভবিষ্যৎ বন্ধক দেওয়া যাবে না। নতুন সরকার ভারত সম্পর্ক মেরামত এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করবে- এমন ইঙ্গিতও যথার্থই আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এসেছে। কিন্তু এই ভারসাম্য কেবল কূটনৈতিক কৌশল না; এটি জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন।

বিএনপির সামনে দুই পথ

শেষ কথা হলো, বিএনপির সামনে দুই পথ। এক পথ হলো পুরোনো সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ- ক্ষমতা পাওয়া, রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করা, দলীয় লোক বসানো, উন্নয়ন প্রকল্প চালানো, তারপর আবার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। আরেক পথ হলো গাঠনিক ক্ষমতার পথ- জনগণকে কথা বলার জায়গা দেওয়া, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসর গড়া, নতুন গঠনতন্ত্রের জন্য সারা দেশে আলোচনা চালানো, অর্থনীতিকে নিচ থেকে পুনর্গঠন করা এবং রাষ্ট্রকে জনগণের আমানত হিসেবে চালানো।
যদি বিএনপি দ্বিতীয় পথ নেয়, তা হলে তারা বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীনতা এবং জিয়াউর রহমানের ১৯ দফাকে নতুন যুগে রূপ দিতে পারবে। আর যদি প্রথম পথ নেয়, তা হলে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতিকে আবারও সংসদীয় ক্ষমতার ভেতরে বন্দি করবে।

বিএনপির বর্তমান সংকট শুধু নীতি বা কৌশলের সংকট না; এটি সংকট মূলত ‘দল’ বনাম ‘রাজনৈতিক জনগণ’-এর সংকট। বাংলাদেশের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের দলে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ তারা জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার বদলে জনগণের ওপর শাসন করার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ এই প্রক্রিয়াকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল- দল, রাষ্ট্র, প্রশাসন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, নিরাপত্তা যন্ত্র, আদালত, মিডিয়া- সব একীভূত হয়ে একটি দলরাষ্ট্র গঠন করেছিল। এখন প্রশ্ন হলো : বিএনপি কি সেই একই কাঠামো নতুন মুখে চালাবে, নাকি ভিন্ন পথ নেবে?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে বিএনপি ‘রাজনীতি’ বলতে কী বোঝে তার ওপর। যদি রাজনীতি মানে কেবল নির্বাচন, সরকার গঠন, মন্ত্রণালয় বণ্টন, বিদেশি শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা- এসব হয়, তা হলে বিএনপি শেষ পর্যন্ত পুরোনো রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থাপক ছাড়া কিছু হবে না। কিন্তু যদি রাজনীতি মানে জনগণের রাজনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনগণকে নিজেদের বিষয়ে কথা বলতে শেখানো, জনগণকে রাষ্ট্রগঠনের অংশীদার বানানো হয়- তা হলে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এখানেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব। জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল- বাংলাদেশের জনগণ এখনও রাজনৈতিকভাবে মৃত না। ছাত্র, তরুণ, শ্রমজীবী, নিম্নমধ্যবিত্ত, মাদরাসা শিক্ষার্থী, প্রবাসী পরিবার, বেকার যুবক- সমাজের বিভিন্ন অংশ আবার রাজনৈতিকভাবে কথা বলতে শুরু করেছিল। তারা কেবল সরকার পরিবর্তন চায়নি; তারা রাষ্ট্রের বৈধতা, সংবিধানের চরিত্র, বিচার, নিরাপত্তা, উন্নয়ন- সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এই প্রশ্নগুলোকে যদি বিএনপি আবার শুধু সংসদীয় রাজনীতির ভেতরে বন্দি করে ফেলে, তা হলে জনগণের রাজনৈতিক শক্তি আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।

ফরাসি রাজনৈতিক দার্শনিক রঁসিয়ের একটা দারুণ কথা বলেছেন।  রাজনীতি শুরু হয় তখন, যখন যাদের কথা শোনা হয় না তারা কথা বলতে শুরু করে। কিন্তু বাংলাদেশে ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে- এই কথা বলার মুহূর্তগুলো পরে আবার দখল হয়ে যায়। ভাষা আন্দোলনের পরে রাষ্ট্রভাষা এলো, কিন্তু রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাল না। মুক্তিযুদ্ধের পরে জনগণের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রকে বৈধতা দিল, কিন্তু রাষ্ট্র আবার জনগণের ওপর দাঁড়িয়ে গেল। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পরে নির্বাচন ফিরল, কিন্তু দলতন্ত্র আরও শক্তিশালী হলো। জুলাইয়ের পরও একই বিপদ সামনে আছে।

তাই বিএনপির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখন ‘ক্ষমতা গ্রহণ’ না, বরং ‘ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা’। এটি আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু গণসার্বভৌমত্বের রাজনীতিতে এটাই আসল প্রশ্ন। যে দল সত্যিই জনগণের সার্বভৌমত্ব মানে, সে কখনো রাষ্ট্রকে সর্বময় করতে চাইবে না। বরং সে রাষ্ট্রকে বিকেন্দ্রীকরণ করবে, স্থানীয় পরামর্শসভা গড়বে, বাজেট ও উন্নয়ন সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণের হাতে দেবে, প্রশাসনের ওপর নাগরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং জনগণের কথা বলার রাজনৈতিক পরিসরকে শক্তিশালী করবে।

এখানে ইসলামি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগও আছে। ইসলামে ‘মালিক’ একমাত্র আল্লাহ; মানুষ খলিফা ও আমানতদার। অর্থাৎ ক্ষমতা ব্যক্তিগত সম্পত্তি না; এটি নৈতিক দায়িত্ব। এই ধারণা আধুনিক রাষ্ট্রের ‘আমি-ই-সর্বোচ্চ’ সার্বভৌমত্বের ধারণার সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক। যদি বিএনপি সত্যিই বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক অনুভূতিকে ধারণ করতে চায়, তা হলে তাকে ক্ষমতাকে মালিকানার বিষয় না, ভেবে বরং আমানতের বিষয় হিসেবে দেখতে শিখতে হবে। এর মানে- রাষ্ট্র জনগণের ওপর দাঁড়াবে না; বরং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এখানে শূরার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। শূরা শুধু পরামর্শ না; এটি এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ব্যাপক আলোচনা, মতভেদ, যুক্তি ও অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আধুনিক গণসার্বভৌমত্বের ধারণার সঙ্গে এর গভীর মিল আছে। ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপান্তরের জন্য ইউরোপীয় সংসদীয় মডেলের অন্ধ অনুকরণ যথেষ্ট না; বরং স্থানীয় ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, ইসলামি ন্যায়বোধ, গ্রামীণ সমষ্টিগত জীবন, নদীবাহিত বদ্বীপের অর্থনীতি- এসবের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রাজনৈতিক রূপ কল্পনা করতে হবে।

এই কারণেই বিএনপির সামনে এখন কেবল সরকার চালানোর প্রশ্ন না; বরং ‘নতুন বাংলাদেশ’ কল্পনা করার প্রশ্ন। তারা কি কেবল একটি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র বজায় রাখবে, যেখানে ঢাকাই সব সিদ্ধান্ত নেবে? নাকি এমন একটি বাংলাদেশ গড়বে, যেখানে প্রতিটি উপজেলা, প্রতিটি অঞ্চল, প্রতিটি সামাজিক গোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবে কথা বলবে এবং রাষ্ট্রগঠনের অংশ হবে?

ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও এই প্রশ্নকে আরও জটিল করেছে। ভারত-চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব, করিডোর রাজনীতি, ঋণনির্ভর উন্নয়ন, জলবায়ু সংকট- এসবের মধ্যে বাংলাদেশ যদি জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে না পারে, তা হলে রাষ্ট্র আবার আন্তর্জাতিক পুঁজি ও ভূরাজনৈতিক শক্তির মধ্যস্থতাকারী যন্ত্রে পরিণত হবে। তখন নির্বাচিত সরকার থাকবে, কিন্তু জনগণের সার্বভৌমত্ব থাকবে না।

শেষ পর্যন্ত বিএনপির সামনে মূল প্রশ্নটি তাই তাত্ত্বিকও, বাস্তবও : তারা কি ‘রাষ্ট্রের দল’ হবে, নাকি ‘রাজনৈতিক জনগণের সংগঠক’ হবে? যদি তারা প্রথমটি হয়, তা হলে তারা পুরোনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করবে।

আর যদি দ্বিতীয়টি হতে পারে, তা হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জনগণকে সত্যিকারের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরের পথ খুলতে পারে।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   বিএনপি  গণঅভ্যুত্থান  রাজনীতি 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: