সিলেটে পশুর হাটে রেকর্ড লেনদেনের হাতছানি

দিপু সিদ্দিকী সিলেট

সারাদেশ

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট বিভাগে জমে উঠতে শুরু করেছে কুরবানির পশুর হাট। প্রাথমিক হিসাব ও পশুর

2026-05-25T03:11:51+00:00
2026-05-25T03:11:51+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সিলেটে পশুর হাটে রেকর্ড লেনদেনের হাতছানি
দিপু সিদ্দিকী সিলেট
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:১১ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট বিভাগে জমে উঠতে শুরু করেছে কুরবানির পশুর হাট। প্রাথমিক হিসাব ও পশুর সংখ্যা অনুযায়ী, এবার পুরো সিলেট বিভাগে প্রায় ২১শ কোটি টাকার বিশাল অর্থনৈতিক লেনদেনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 

তবে এই বিপুল অঙ্কের বাজারের মাঝেও পশু খাদ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্থানীয় খামারিদের। অবশ্য স্বস্তির খবর হলো, এবার সিলেট বিভাগে কুরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। পশুর সংখ্যা ও চলতি বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেটে এবার কুরবানির পশুকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে রেকর্ড পরিমাণ টাকা হাতবদল হবে। সিলেট বিভাগের কুরবানিযোগ্য মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার পশুর আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

সিলেটে কুরবানির সার্বিক প্রস্তুতি ও পশু সরবরাহের বিষয়ে তথ্য নিয়ে সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের পরিচালক ড. আবু জাফর মো. ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবার সিলেট বিভাগে কুরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত পশু থাকবে। তাই এবার বাইরে থেকে পশু আনার কোনো প্রয়োজন হবে না।

সরেজমিন স্থানীয় খামারিদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দেশে প্রচলিত পশু খাদ্যের প্রায় সব ধরনের উপাদানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সরিষার খৈল, সয়াবিন খৈল, গমের ভুসি, ভুট্টা, মসুর ও মুগের ভুসিসহ অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পশু খাদ্যের এই আকাশছোঁয়া দামের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক, ছোট ও মাঝারি খামারিরা।

সরেজমিন কথা হয় কুরবানির পশু ব্যবসায়ী আজাদ মিয়ার সঙ্গে। এ সময় তিনি নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, এবার ঈদের জন্য পাঁচটা গরু কিনেছি। কয়েক মাসে শুধু তাদের খাবার আর পরিচর্যাতেই আমার অতিরিক্ত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন বাজারে যদি উপযুক্ত দাম না পাওয়া যায় তবে লাভ তো দূরের কথা, আসল খরচই উঠবে না।

এদিকে পশু মোটাতাজাকরণে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতি ব্যবহার না হয় সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামারিদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পশু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েড বা যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার না করার জন্য খামারিদের সরাসরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপদ উপায়ে পশু পালনের জন্য খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার সিলেট বিভাগে কুরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫টি ষাঁড়, ৩৫ হাজার ২৮৭টি বলদ, ২৮ হাজার ৭৯০টি গাভি, ৬ হাজার ৩৬৬টি মহিষ, ৭৩ হাজার ৮৮১টি ছাগল, ১৯ হাজার ৭৮টি ভেড়া এবং ৩ হাজার ৪৩৭টি অন্যান্য পশু। সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে সিলেট জেলায়। এখানে চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৮টি পশুর। তার বিপরীতে প্রস্তুত আছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৫টি। গত বছরের তুলনায় জেলায় চাহিদা বেড়েছে ২০ হাজার ৩৯৭টি এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫ হাজার ৭০৭টি। জেলার খামারগুলোতে বর্তমানে ৪৫ হাজারের বেশি ষাঁড় ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বলদ, গাভি, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলায় এবার কুরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৭৭২টি। প্রস্তুত রয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি পশু। তবে গত বছরের তুলনায় সেখানে চাহিদা কমেছে ৭ হাজার ১৫১টি এবং উৎপাদন কমেছে ৬ হাজার ৫৩টি। হবিগঞ্জে চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার ৩৫০টি পশুর। প্রস্তুত রয়েছে ৫০ হাজার ৮০২টি। জেলায় গত বছরের তুলনায় চাহিদা কমেছে ১৯ হাজার ২৩২টি এবং উৎপাদন কমেছে প্রায় ২০ হাজার পশু। 

অন্যদিকে সুনামগঞ্জে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে এবার কুরবানির পশুর চাহিদা বেড়েছে ৬ হাজার ৯৯০টি। প্রস্তুত রয়েছে ৫২ হাজার ৫১৩টি পশু যা স্থানীয় চাহিদার চেয়ে বেশি।

বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এবার কুরবানির হাটে মহিষ গড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ষাঁড় গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, বলদ গড়ে ১ লাখ টাকা, গাভি গড়ে ৯০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পশু গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, ছাগল গড়ে ১৫ হাজার টাকা, ভেড়া গড়ে ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রির আশা রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ছোট গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায় সিলেটের বাজারে নিয়মিত বিক্রি হয়ে আসছে। সব মিলিয়ে পশুর দামের গড় হিসাবে এবার কুরবানির পশুর হাটে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি হাতবদল হবে। এ ছাড়া এই হিসাবের বাইরে রয়েছে চামড়ার দাম।

/এসএকে


  বিষয়:   সিলেট  পশু  হাট  রেকর্ড  লেনদেন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: