সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশন বাংলাদেশের। ২০২২ ও ২০২৪ সালে শিরোপা জেতে লাল-সবুজের দল। দুবারই নেপাল থেকে শিরোপা জেতে ঘরে ফেরেন মারিয়া, তহুরা, আফঈদারা।
এবার অবশ্য আয়োজকে পরিবর্তন এসেছে। ভারতের গোয়ায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ৬ জাতির সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। বি-গ্রুপ থেকে লড়বে বাংলাদেশ। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত ও মালদ্বীপ। ‘এ’- গ্রুপে পড়েছে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা।
আজ থেকে আসর শুরু হলেও বাংলাদেশ মাঠে নামবে আগামী ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ৩১ মে ভারতের বিপক্ষে। এবারের আসর লাল-সবুজের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের। যদিও আসরটিকে চ্যালেঞ্জিং মানছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা।
তবে চ্যালেঞ্জের পাশে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের মঞ্চ হিসেবেও দেখছেন কোচ পিটার বাটলার। আসর সামনে রেখে গতকাল ৬ দলের কোচ-অধিনায়করা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে নিজেদের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার এবং অধিনায়ক মারিয়া মান্দা।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে থাইল্যান্ডে প্রায় দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ। সেখানে কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি স্থানীয় দলের বিপক্ষে খেলেছে প্রস্তুতি ম্যাচও। এরপর ২০ মে ভারতের উদ্দেশে ব্যাংকক ত্যাগ করেন বাটলারের দল। গোয়াতে পৌঁছেও অনুশীলনের ব্যস্ত সময় পার করছেন মারিয়া বাহিনী।
গতকালও অনুশীলন সেশন ছিল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে মারিয়া জানান, সাফে আমরা টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন এবং এখন আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে। তো এটা আমাদের জন্য খুবই বড় একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা আমাদের স্বাভাবিকটাই খেলার চেষ্টা করব। আর ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা ভালো করার চেষ্টা করব। সেভাবেই আমরা আমাদের সব প্রস্তুতি ভালোভাবে করে আসছি।’
হ্যাটট্রিক জয়ে ইতিহাস গড়ার হাতছানি বাটলারের দলের। এটা ভালোই জানা বাংলাদেশ কোচের। তবে সাফের মঞ্চকে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জায়গা হিসেবে দেখছেন তিনি। অতীতে কি সাফল্য এসেছে না এসেছে সেসব নিয়ে আপাতত ভাবনা নেই। সামনের দিকে তাকিয়ে বাটলার।
গতকাল টুর্নামেন্ট পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে পিটার বাটলার বলেন, আমরা এগিয়ে যাই এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকাই। আমাদের দলে কিছু নতুন এবং তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। আমি মারিয়াকে দলে নিয়ে এসেছি এবং তাকে অধিনায়ক করেছি। সে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেবে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আমি সত্যিই মনে করি এটি খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার একটি চমৎকার সুযোগ, তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা ইতিহাস তৈরি করতে পারবে।’
সাফে এবার কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচে হোঁচট খাওয়া মানে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়! নিজেদের গ্রুপ প্রসঙ্গে বাটলার বলেন, ‘অবশ্যই ভারত একটি শক্তিশালী দল, তাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা বেশ সুসংগঠিত এবং তারা নিজেদের মাঠে খেলছে। আশা করি রেফারিরা ন্যায্য সিদ্ধান্ত দেবেন।
তবে আমি মনে করি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতকে যেভাবে দেখি, মালদ্বীপকেও ঠিক একইভাবে দেখি। আমি উভয় দলকেই সম্মান করি। প্রতিটি ম্যাচের জন্যই এটি প্রযোজ্য, আমরা যার বিপক্ষেই খেলি না কেন। আমি সত্যিই অনুভব করি যে আমাদের কেবল নিজেদের গেম প্ল্যান বা কৌশলগুলো ঠিকঠাক সাজাতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন আমরা সুসংগঠিত থাকি এবং সম্ভাব্য সবচেয়ে পেশাদার ও দক্ষ উপায়ে আমাদের গেম প্ল্যান মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারি।’
মারিয়া, মনিকা, তহুরা, আফঈদারা নিয়ে গড়া দলটি অনেক দিন ধরেই এক সঙ্গে খেলছে। তারা জানে কীভাবে বড় আসরে খেলতে হয়, চাপকে জয় করে এগোতে হয়। পূর্বের মতো এবারের সাফেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলছে বাংলাদেশ।
/এসএকে