সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর দুটি ক্যাম্পের একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এই হামলার সঙ্গে ইয়াসিন বাহিনী জড়িত আছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন।
সোমবার (২৫ মে) র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ক্যাম্পে প্রবেশ করার বেশ কয়েকটি পথ কেটে দেওয়া হয়েছে। যাতে যৌথবাহিনী প্রবেশ করতে না পারে। এরইমধ্যে কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।
আাগামী ৩০ মে একটি নতুন তৈরি ক্যাম্প উদ্বোধনের কথা ছিল। তা উদ্বোধনের আগেই সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে একে-৪৭ রাইফেল থেকে চাইনিজ রাইফেল সবই।
হাফিজুর রহমান আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সন্ত্রাসীদের রুখতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতেই জঙ্গল সলিমপুরের বিশাল পাহাড়ি এলাকা চারদিক থেকে কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে ফেলেছে যৌথবাহিনী। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যেন কোনো অপরাধী পালিয়ে যেতে না পারে।
টানা গোলাগুলি ও সাঁড়াশি অভিযান চললেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেই হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। এছাড়া ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান বা কোনো সদস্যকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা কৌশলগত কারণে প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি অভিযান শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানানো হবে।
উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং মাদকের আস্তানা গড়ে তোলার পেছনে দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াসিন বাহিনীর নাম জড়িয়ে রয়েছে। এর আগেও এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অপরাধী চক্রের একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সময়ের আলো/জোই