চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্পে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসী ইয়াসিনের অনুসারীরা। রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৫ মে) ভোর থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। সকাল সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত আছে। ভোরে হামলার সময় যৌথবাহিনীর সঙ্গে দুই ঘণ্টা ধরে গুলিবিনিময় হয়েছে।
সোমবার ভোরে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ইয়াসিন বাহিনী ফের হামলা চালিয়েছে। রাত ১টার দিকে ইয়াসিন অনুসারীরা জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। আমরা নন-লিথাল (প্রাণঘাতী নয়) অস্ত্র ব্যবহার করেছি। অভিযান সকাল থেকে জোরদার করা হয়েছে। যৌথবাহিনীর সদস্যরা ভেতরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। অভিযান জোরদার করতে যৌথবাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পের চারপাশে প্রবেশ করে যৌথবাহিনী। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই চলছে অভিযান। এখনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কাউকে আটক করা হয়নি। হামলার ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কের মধ্যে আছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাসীদের সাম্রাজ্য হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা ঝাঁকুনি দেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের এটা করতে দেয়া হবে না। সন্ত্রাসীদের রুখতে যা যা করা দরকার সব করা হবে।
গত ৯ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং বর্তমানে র্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের এই অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। ওই সময় এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও র্যাবের একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে অন্তত ৩০ বছর ধরে একটি চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে দখল করে আছে বিশাল এলাকা। অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল ও হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। দখলবাজদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি।
সময়ের আলো/জোই