আসন্ন জাতীয় বাজেটে টেক্সটাইল খাতে বিদ্যমান আয়কর হার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
কোভিড ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে ১২ শতাংশ আয়কর বহাল থাকার প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে এ দাবি করেছে সংগঠনটি।
পৃথক এক আবেদনে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) তাদের ৫০টি সদস্য কারখানার ৪২০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করতে অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করেছে।
২০১৫ সালে বস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত সুতা উৎপাদন, সুতা ডায়িং, ফিনিশিং, কোনিং, কাপড় প্রস্তুত, কাপড় ডায়িং, প্রিন্টিংসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ আয়কর নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১০ বছরের জন্য দেওয়া এই সুবিধার মেয়াদ গত বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়ায়, চলতি অর্থবছরে এসব কারখানার আয়ের ওপর ২৭.৫০ শতাংশ আয়কর আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে করহার ১২ শতাংশ।
বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান কর কাঠামো বৈষম্যমূলক এবং এটি টেক্সটাইল খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।
বিটিএমএ বলেছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, রফতানি প্রণোদনা হ্রাস ও এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন টেক্সটাইল খাত।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর দেওয়া বহুমাত্রিক ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার কারণে সেসব দেশের সুতা ও কাপড় বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে প্রবেশ করছে।
বিটিএমএর তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে টিকে থাকা বেশিরভাগ মিল উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৬০-৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। এতে মূলধন সংকুচিত হয়ে খাতটি মারাত্মক আর্থিক চাপে রয়েছে।
এদিকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারা, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিকের মৃত্যুর কারণে ৫০টি কারখানাকে রুগ্ন শিল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তাদের বকেয়া ব্যাংকঋণ মওকুফের অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রের কিছু করণীয় আছে বলে আমরা মনে করছি, সর্বসাকুল্যে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ১৬টি ব্যাংকের নিকট মোট আসল দেনা ৮১৯ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা।
সময়ের আলো/আআ