শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম হাট

বেনাপোল প্রতিনিধি

সারাদেশ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুর হাট। হাট জুড়ে এখন দেশীয় গরুর

2026-05-25T14:12:31+00:00
2026-05-25T14:12:31+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম হাট
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ২:১২ পিএম 
বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুর হাট। ছবি : সময়ের আলো
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম বাগআঁচড়া সাতমাইল পশুর হাট। হাট জুড়ে এখন দেশীয় গরুর সমারোহ। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। তবে এবার বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতিই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, হাজারো গরুর হাঁকডাকে মুখর পুরো বাজার এলাকা। যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা তাদের গরু নিয়ে বসেছেন। পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ থাকলেও এখনো ক্রেতার চাপ তুলনামূলক কম। তবে বিক্রেতাদের আশা, ঈদের আগের শেষ হাটে বেচাকেনা আরও জমে উঠবে।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ১৬ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ১৩ হাজার ১০০টি। বিপরীতে উপজেলায় চাহিদা রয়েছে ১২ হাজার ৭২৬টি পশুর। ফলে কোরবানির পশুর কোনো সংকট থাকবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

হাটে আসা ক্রেতাদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম কিছুটা সহনীয় হলেও ছোট ও মাঝারি গরুর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। কারণ সাধারণ মানুষের বাজেটের মধ্যে এসব গরুর চাহিদাই বেশি।


ক্রেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, একটি গরুর দাম প্রথমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে দরদাম করে ৯৫ হাজার টাকায় কিনেছি। তবে আমার মনে হয় গরুটির দাম ৯০ হাজার টাকার মধ্যেই হওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে খামারিদের অভিযোগ, গো-খাদ্য ও লালন-পালনের খরচ বাড়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

নাজমুল নামে এক খামারি বলেন, আমার খামারে আটটি গরু ছিল। এর মধ্যে দুটি বিক্রি করেছি। কিন্তু যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, সে তুলনায় দাম পাচ্ছি না।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপু কুমার সাহা বলেন, এবার উপজেলায় কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম কাজ করছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ব পরীক্ষা, অসুস্থ পশুর চিকিৎসাসহ সার্বিক মনিটরিং করা হচ্ছে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণ করা পশু যাতে বাজারে না আসে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি রয়েছে।

সাতমাইল পশুর হাটের পরিচালকের পক্ষে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ পশুর হাটে পর্যাপ্ত গরু উঠেছে। এখনো ক্রেতার চাপ কম থাকলেও ঈদের শেষ দিকে বেচাকেনা অনেক বেড়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।

সাতমাইল পশু হাট ইজারাদার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সাতমাইল পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। হাটে দেশীয় গরু, ছাগল পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক টিমও কাজ করছে। আশা করছি, ঈদের আগ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা ভালো লাভের মুখ দেখবে।

এদিকে হাটে স্থানীয় পাইকারদের উপস্থিতিও চোখে পড়েছে। তারা গ্রামের বিভিন্ন ছোট হাট থেকে গরু কিনে বড় বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। সব মিলিয়ে ঈদ সামনে রেখে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সাতমাইল পশুর হাট।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   দক্ষিণাঞ্চল  বৃহত্তম হাট 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: