এক সময় ঈদ এলেই যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কের নাম শুনলেই ভেসে উঠত দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর চরম ভোগান্তির ছবি। বিগত বছরের মতো দীর্ঘ যানজট বা ভোগান্তি ছাড়াই স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে যানবাহন। বগুড়া-রংপুর ইন্টারচেঞ্জ চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত, কড্ডার মোড়, হাটিকুমরুল গোলচত্বরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও যানজট নেই। ঈদকে ঘিরে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল থাকলেও যানবাহন চলছে স্বাভাবিক গতিতে। ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস নির্ধারিত গতিতে চলাচল করছে।
গাজীপুর থেকে বগুড়াগামী বাসচালক হান্নান বলেন, এবারের ঈদযাত্রা অনেক স্বস্তিদায়ক। মহাসড়কে কোথাও দীর্ঘ যানজট নেই। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
গাজীপুর থেকে বগুড়ায় ঈদ করতে যাওয়া গার্মেন্টসকর্মী মায়া বেগম বলেন, আগের বছরগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হতো। এবার খুব সহজেই বাড়ি ফিরতে পারছি। এতে পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাব।
কড্ডার মোড়ে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে নাটোরগামী বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল হোসেন বলেন, পরিবার নিয়ে যাত্রা করছি। সড়কের পরিস্থিতি ভালো থাকায় কোনো ভোগান্তি হয়নি। বাচ্চারাও স্বস্তিতে আছে।
মাইক্রোবাস নিয়ে নগরবাড়ীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা চালক আমির হামজা বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভালো হওয়ায় গাড়ি থেমে থাকতে হচ্ছে না। স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করা যাচ্ছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোথাও যানজট সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি টহল ও মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই