রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ায় সময় বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করছিলেন চিকিৎসক। এ সময় ওই রোগীর ক্ষয়প্রাপ্ত ও নষ্ট দাঁতের পরিবর্তে সুস্থ ও ভালো দাঁত তুলে ফেলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আজমিরে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করলে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর নাম শাবানা খান। তিনি আজমিরের নাগফানি নাই সড়ক এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তিনি তীব্র দাঁতের ব্যথায় ভুগছিলেন। এর আগে তিনি জওহরলাল নেহরু হাসপাতালের দন্ত বিভাগে দেখান। সে সময় চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-করে তার একটি দাঁত নষ্ট হয়ে গেছে বলে চিহ্নিত করেন এবং সেটি তুলে ফেলার পরামর্শ দেন।
শুক্রবার (২২ মে) শাবানা তার স্বামীর সঙ্গে দাঁত তুলতে ওই হাসপাতালে যান। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তিনি বুঝতে পারেন, যে দাঁতটিতে সমস্যা ছিল, সেটি আগের মতোই আছে; বরং চিকিৎসক তার মুখ থেকে অন্য একটি ভালো ও সুস্থ দাঁত তুলে ফেলেছেন।
ভুক্তভোগী শাবানা খান অভিযোগ করে বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় যখন তীব্র ব্যথা হচ্ছিল, আমি বারবার ওই নারী চিকিৎসককে বলছিলাম যে ভুল দাঁত তোলা হচ্ছে। আমি বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি আমার কোনো কথাই শোনেননি এবং জোর করেই ভালো দাঁতটি উপড়ে ফেলেন।
শাবানার অভিযোগ, চিকিৎসার সময় ওই চিকিৎসক মোটেও মনোযোগী ছিলেন না। তিনি নিজের দায়িত্ব বাদ দিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসার সময় ওই চিকিৎসক তার সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে ব্যস্ত ছিলেন। এই চরম অমনোযোগিতার কারণেই এমন বড় ধরনের গাফিলতি ঘটেছে।
ভুল দাঁত তোলার বিষয়টি নিয়ে শাবানা ও তার পরিবার হাসপাতালের কর্মচারীদের কাছে প্রতিবাদ জানালে, উল্টো কর্মচারীরা তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও তর্কাতর্কি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। হাসপাতাল চত্বরে এই হট্টগোল শুরু হলে অন্যান্য রোগী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
শাবানা আরও অভিযোগ করেন, এই একই হাসপাতালে দুই মাস আগেও তার আরেকটি দাঁতের চিকিৎসা করা হয়েছিল। সে সময় কোনো ধরনের অবশ করার ইনজেকশন ছাড়াই দাঁত টেনে তোলা হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত অমানবিক ও যন্ত্রণাদায়ক।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী রোগী শাবানা খান, জওহরলাল নেহরু হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ড. অরবিন্দ খারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দোষী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ড. অমিত যাদব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতি এবং ভুল দাঁত তোলার একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিললে আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ