৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধা আমেনা বেগম। ৩০ বছর আগে স্বামী হারিয়েছেন। আছেন দুই ছেলে ও এক মেয়ে, তারাও প্রতিবন্ধী। দুই ছেলের স্ত্রীরা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান, আর মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে।
সহায়-সম্বলহীন আমেনা বেগমের দিন কাটত পলিথিনের ছাউনি দেওয়া একটি ভাঙা ঘরে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে পড়ত পানি, রাতে ঘুমাতে পারতেন না। খাবারের কষ্ট আর থাকার কষ্ট ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। কেউ দিলে খেতেন, না দিলে কাটত অনাহারে। বন্যা বা ঝড়ের দিনেও ভাঙা ঘরেই কাটত নির্ঘুম রাত। অসুখ-বিসুখ হলে টাকার অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে পড়ে থাকতেন।
হৃদয়বিদারক এই কষ্টের কথা বলছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আমেনা খাতুন।
বৃদ্ধার এমন অসহায়ত্ব দেখে পাশে দাঁড়ান রুবি আক্তার নামে এক প্রতিবেশী নারী। তার উদ্যোগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
জেলা প্রশাসন থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে এক বান ঢেউটিন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে আমেনা বেগমকে একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়।
তবে ঘর পেলেও সেখানে বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না। স্থানীয়দের সহায়তায় বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন ও আমেনা বেগমের ওষুধ কেনার জন্য সাড়ে চার হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
গতকাল রোববার (২৪ মে) বিকেলে পোনাবালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আল আমিন ও ইউপি সদস্য মঞ্জুরুল হক শরীফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নগদ টাকা আমেনা বেগমের হাতে তুলে দেন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবী কনা আক্তার, নাজমুন্নাহার বিথী এবং সাংবাদিক আমিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ঘর ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে আমেনা বেগম হাসিমুখে বলেন, ‘আমি আগে ঘরে শান্তিতে থাকতে পারতাম না। ওনারা আমাকে ঘর তুলে দিয়েছেন। এখন আবার কারেন্ট আর ওষুধ কেনার জন্য টাকা দিলেন। খাবারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও চাল দেওয়া হচ্ছে। এখন আমার থাকার আর খাবারের কষ্ট শেষ হয়েছে। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুক।’
সময়ের আলো/জেডি