খামারটিতে রয়েছে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ৪০০র বেশি দুম্বা, গাড়ল ও ভেড়া। ছবি : সময়ের আলো
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরের নোয়াদ্দা এলাকায় ঢুকতেই চোখে পড়ে সারি সারি বড় আকৃতির দুম্বা। দেখতে অনেকটা ভেড়ার মতো হলেও লেজে জমা চর্বি আর বিশাল দেহের কারণে সহজেই আলাদা করা যায় প্রাণীগুলোকে। একসময় মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চলে পরিচিত এ প্রাণী এখন বাণিজ্যিকভাবে পালিত হচ্ছে বাংলাদেশেও। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এমন দুম্বা দেখতে ও কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
সেখানে গড়ে উঠেছে ‘পপুলার এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি বড় দুম্বার খামার। খামার কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২০ সালে মাত্র তিনটি তুর্কি দুম্বা দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন খামারটিতে রয়েছে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ৪০০র বেশি দুম্বা, গাড়ল ও ভেড়া।
সম্প্রতি খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, কর্মীরা ব্যস্ত প্রাণীগুলোর পরিচর্যায়। কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। খামারে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
দুম্বা নিয়ে মানুষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
খামারের ব্যবস্থাপক হাফিজুর ইসলাম হাফিজ বলেন, ‘দুম্বা নিয়ে মানুষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ঈদ সামনে এলে চাহিদা আরও বাড়ে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ক্রেতারা আসছেন।’
তিনি জানান, আকার ও জাতভেদে খামারের দুম্বাগুলোর দাম এক লাখ থেকে শুরু করে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। প্রাণীগুলোকে গমের ভূষি, ছোলার ভূষি, ডাবলি ভূষি ও প্রাকৃতিক ঘাস খাওয়ানো হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যার কারণে এগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে।
খামারে দুম্বা দেখতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, সাধারণ গরু বা ছাগলের তুলনায় দুম্বা দেখতে আলাদা হওয়ায় অনেকেই কোরবানির জন্য এগুলো কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুম্বা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সাত্তার বেগ বলেন, ‘দুম্বা সাধারণত শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ার প্রাণী। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গেও এখন ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। ফলে, দেশে দুম্বা পালনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কেরানীগঞ্জে কোরবানির জন্য ১৪ হাজার ২৬৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ছাগল, ভেড়া, মহিষের পাশাপাশি বাড়ছে দুম্বার চাহিদাও।