প্রশ্ন : কোরবানির পশু জবাই করার সময় কখন?
উত্তর : যেসব এলাকায় জুমা ও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সেসব এলাকার মুসল্লিদের জন্য ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা জায়েজ নয়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-বৃষ্টি বা অন্য কোনো ওজরের কারণে যদি ঈদের দিন ঈদের নামাজ না হয়, তা হলে ঈদের নামাজের সময়ের পর অর্থাৎ সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলার পর প্রথম দিনেও কোরবানি করা জায়েজ। (ফাতাওয়া শামি : ৬/৩১৫; ফাতাওয়া আলমগিরি : ৫/২৯৫)
প্রশ্ন : কোরবানির পশুর কোন কোন রগ কাটা জরুরি?
উত্তর : কোরবানির পশুর চারটি রগ কাটা জরুরি। শ্বাসনালি, খাদ্যনালি, দুই পাশের মোটা দুই রগ। এগুলো থেকে যেকোনো তিনটি কাটা হলেও কোরবানি হালাল হবে। অন্যথায় হবে না। (ফাতাওয়া শামি : ৬/৩২৬)
প্রশ্ন : মেশিনের সাহায্যে কোরবানি করা যাবে কি?
উত্তর : হ্যাঁ, মেশিনের সাহায্যে কোরবানি করা জায়েজ আছে, তবে শর্ত হলো সুইচ টিপ দেওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে হবে। সুইচ টিপদাতা মুসলমান হতে হবে এবং উল্লেখিত রগগুলো কাটতে হবে। (নিজামুল ফাতাওয়া : ১/২৮০)
প্রশ্ন : কোনো প্রাণী জবাই করার সময় ছোটাছুটি করতে গিয়ে যদি ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে তা হলে এই প্রাণী দ্বারা কোরবানি আদায় হবে কি?
উত্তর : ত্রুটিমুক্ত প্রাণী জবাই করার সময় ছোটাছুটি করতে গিয়ে যদি কোনো ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে তা হলে এই ত্রুটি কোরবানির জন্য বাধা হবে না। এই প্রাণী দ্বারাই কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া শামি : ৬/৩২৫)
প্রশ্ন : রাতে কোরবানি করার হুকুম কী?
উত্তর : পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে কোরবানি করা জায়েজ। তবে অনুত্তম। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ২৬/৩৪১)
প্রশ্ন : কত দিন পর্যন্ত কোরবানির পশু জবাই করা যাবে?
উত্তর : জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখ পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে। তবে দশ তারিখে করাই উত্তম। (ফতাওয়া মাহমুদিয়া : ২৬/৩৩৭)
প্রশ্ন : জবাইকৃত পশুর দম পূর্ণরূপে যাওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো যাবে কি?
উত্তর : জবাইকৃত পশুর দম পূর্ণরূপে যাওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানোর ব্যাপারে নবীজি (সা.) নিষেধ করেছেন। কেননা এটি পশুর ওপর জুুলুম। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ২৬/১৭৩)
প্রশ্ন : কোনদিকে ফিরে কোরবানির পশু জবাই করতে হবে?
উত্তর : কোরবানির জন্তু জবাইকারীদের জন্য কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো সুন্নতে মুয়াক্কাদা। বিনা কারণে ছেড়ে দেওয়া মাকরুহ। (ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৩/৫৪৭)
প্রশ্ন : কোরবানির পশু জবাই করার পর কাউকে শরিক নিতে পারবে কি? কিংবা কোনো অংশ বিক্রি করতে পারবে কি?
উত্তর : পশু জবাই করার পর কাউকে শরিক নেওয়া অথবা কোনো অংশ বিক্রি করা জায়েজ নয়। এমনটি করলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না। (আপকে মাসাইল আওর উনকা হল : ৪/১২৬)
সময়ের আলো/জেডআই