বরগুনার আমতলী উপজেলায় রাতের আঁধারে কালিপুরা খাল খনন ও খালের দুই পাড়ের গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকুর বিরুদ্ধে।
খাল খননকাজে অনিয়ম বন্ধের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে আমতলী উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা খালের ২ হাজার ৫০০ মিটার খননের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই খননকাজের দায়িত্ব পান সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকু। গত ২০ মে থেকে তিনি কাজ শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী খাল খননের আগে সেচ দিয়ে পানি সরানোর কথা থাকলেও তা না মেনে ভরা খালেই দায়সারাভাবে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। খালের দুই পাড়ের কৃষকদের লাগানো মূল্যবান গাছপালা উপড়ে ও কেটে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে গত কয়েকদিন ধরে দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এই খননকাজ চালানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল জব্বার, নাদিম আহম্মেদ ও খলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খাল খননের নামে এখানে সরকারি টাকার হরিলুট চলছে। এতে কৃষকদের কোনো উপকার তো হবেই না, উল্টো দুই পাড়ের কোটি টাকার গাছ কেটে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধের দাবি জানাই।’
মুনসুরা নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘আমার বেশ কয়েকটি গাছ মেশিন দিয়ে কেটে ফেলেছে। পানির মধ্যে রাতের বেলা ভরা খাল কাটছে— এমন খাল কাটা আমি জীবনেও দেখিনি।’
কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল আউয়াল ও তাসলিমা বেগম জানান, খাল খননের নামে এখানে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও প্রথমে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে অভিযুক্ত ঠিকাদার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কায়েসুর রহমান ফকু বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশল অফিসের পরিকল্পনা ও প্রাক্কলন অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে ভরা খাল খননের অভিযোগ সঠিক নয়।’ তবে খননকাজের সুবিধার্থে দুই পাড়ের কয়েকটি গাছ কাটার কথা তিনি স্বীকার করেন।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন,‘সেচ ছাড়া রাতের বেলায় খাল খননের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। নিয়ম ও সঠিক মান বজায় না রাখায় ওই খালের খননকাজ আর করতে দেওয়া হবে না।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি জানার পরপরই উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত কাজ বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জেডি