জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কলেজছাত্রীকে (১৯) জোরপূর্বক বিয়ে রেজিস্ট্রি এবং আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল খান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার (২৫ মে) রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সাইফুল উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা গ্রামের মাহাবুবুল আলম চাঁন খানের ছেলে এবং মামলার ২ নম্বর আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তরুণীর পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নাহিদ ক্ষুব্ধ হন। পরে তিনি কৌশলে তরুণীর চাচা সাইফুল খানকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা ব্যাবসার কারণে পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করেন। সম্প্রতি জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজন হওয়ায় তরুণী তার চাচা সাইফুল খানকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেটি সংগ্রহ করতে বলেন। গত ২১ মে জন্মনিবন্ধনের কপি নিতে ওই তরুণী ঢাকা থেকে ভাটারা বাজারে এলে চাচা সাইফুল খান কৌশলে তাকে স্থানীয় কাজি শামীম হোসেনের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বিয়ের কাগজে তরুণীর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তরুণীকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার ইস্পাহানি এলাকার একটি চারতলা ভবনের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মানিক মিয়া নাহিদসহ কয়েকজন তাকে আটকে রাখে এবং নাহিদ তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাজি শামীম হোসেন বলেন, ‘তরুণীর মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ রয়েছে। অভিভাবক হিসেবে চাচা সাইফুল খান উপস্থিত থাকায় বিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছিল। থানায় মামলা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় তরুণীর মা বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামিসহ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি