ঈদুল আজহার জামাত আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এবার এই মাঠে ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বরাবরের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় এই ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শোলাকিয়া মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। পরিদর্শন শেষে তারা সাংবাদিকদের মাঠের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানান।
সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শোলাকিয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত শেষে ঈদুল ফিতরের মতো মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরবেন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা এখানে আসেন এবং তাঁদের থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা করে থাকে জেলা প্রশাসন। আশা করি, এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। সকাল ৯টায় ঈদের মূল জামাত শুরু হবে। এতে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভৈরব থেকে একটি বিশেষ ট্রেন সকাল ৬টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। অন্য ট্রেনটি ময়মনসিংহ থেকে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ এসে পৌঁছাবে। জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ট্রেন দুটি আবার ফিরতি যাত্রা করবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, মাঠে আসা মুসল্লিদের জন্য সুপেয় পানি, অজু করার সুব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবায় পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া সকাল ৮টায় সরযূ বালা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে নারীদের জন্য পৃথক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দেশের বৃহত্তম এই জামাতকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ করতে পুরো মাঠ এবং আশপাশের এলাকাকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া ছাতা, ব্যাগ, লাঠি বা কোনো ধাতব বস্তু মাঠে না আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
সময়ের আলো/জেডি