চাচার ঘরে দাদি মমিনা খাতুনের পাশে ঘুমিয়ে ছিল ছোট্ট ফয়েজ। আর মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। নারায়ণগঞ্জ থেকে বাবা-মায়ের বাড়ি ফেরার কথা ছিল বিকেলেই। ছেলের জন্য নতুন পোশাকও কিনেছিলেন তারা। কিন্তু ঈদের আনন্দ ঘিরে থাকা সেই পরিবারের ঘরে ভোররাতে নেমে আসে ভয়াবহ শোক।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের টরকীকান্দা গ্রামে প্রবল ঝড়-তুফানে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মো. ফয়েজ (১১) নামে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোররাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফয়েজ টরকীকান্দা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। সে ৮২ নং গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে প্রবল ঝড় ও ধমকা হাওয়ার সময় ফয়েজ দাদি মমিনা খাতুনের সঙ্গে চাচার ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ একটি বড় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। গাছের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু ফয়েজ। ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে বেঁচে যায় দাদি মমিনা খাতুন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজের বাবা আবু তাহের নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশা চালান। মা-বাবা সেখানে বসবাস করলেও সন্তানের লেখাপড়ার সুবিধার্থে তাকে গ্রামের বাড়িতে দাদীর কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষে ছেলেকে নিয়ে আনন্দ করার স্বপ্ন ছিল বাবা-মায়ের। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায় তাদের কাছে।
প্রতিবেশীরা জানান, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ফয়েজ সবার প্রিয় ছিল।
নিহতের দাদি মমিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাতে আমার পাশে ঘুমাইছিল আমার নাতি। ভোরে ফজরের আজান আর তুফানের শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। আমি ওরে উঠতে বলছিলাম। তখন সে কইছিল, আমি একটু পরে উঠতেছি। এরপর আমি দরজা খুলে বাইরের দিকে তাকাতেই হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা বড় গাছ ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। গাছটা সরাসরি আমার নাতির গায়ের ওপর পড়ে। আমার চোখের সামনেই সব শেষ হইয়া গেল। আমার নাতিডারে আর বাঁচাইতে পারলাম না।
বাবা আবু তাহের বলেন, ছেলের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনছিলাম। বিকালে বাড়ি আসার কথা ছিল। আল্লাহ আমার সব শেষ কইরা দিল।
মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। সরকারিভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।
সময়ে আলো/জোই