মানচিত্র থাকলে আরাফায় হারানোর ভয় অনেকটাই কমে যায়। হজের ৫ দিনের মধ্যে ৪ দিন মিনায় এবং ১ দিন আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থান করতে হয়। তাই আগে থেকেই জায়গাগুলোর মানচিত্র দেখে নেওয়া উপকারী।
মক্কা, মদিনা, মিনা ও আরাফার কাগজে ছাপা বা অনলাইনে ডিজিটাল মানচিত্র পাওয়া যায়। এগুলো দেখে নিলে রাস্তাঘাট, তাঁবু, ব্রিজ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়।
মিনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আগে থেকে চিনে রাখা ভালো। যেমন, জামারা (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের স্থান), মসজিদে খায়েফ এবং বিভিন্ন ব্রিজ (বাদশাহ খালিদ, বাদশাহ আবদুল্লাহ, বাদশাহ ফয়সাল)। এছাড়া হাঁটার পথ ও টানেলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। মিনায় আলাদা আলাদা জোন ও নির্দিষ্ট রাস্তার নম্বর আছে, যেগুলো জানা থাকলে চলাচল সহজ হয়।
মিনার প্রধান কিছু রাস্তা হলো, বাদশাহ ফয়সাল ৫০ নম্বর রোড, আল জাওহারাত ৫৬ নম্বর রোড, সুকুল আরব ৬২ নম্বর রোড এবং বাদশাহ ফাহাদ ৬৮ নম্বর রোড।
এছাড়া মিনায় ও মুজদালিফায় একাধিক রেলস্টেশন রয়েছে। টানেল, হাসপাতাল, মসজিদ এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও সেখানে আছে। নিজের তাঁবুর নম্বর জানা খুব জরুরি, না হলে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মোয়াল্লেম অফিস থেকে তাঁবুর নম্বরসহ কার্ড দেওয়া হয়, তাই বাইরে বের হওয়ার সময় নুসুক কার্ড ও তাঁবুর কার্ড সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে। যে তাঁবুতে থাকবেন, সেটি ভালোভাবে চিনে নেবেন।
মিনায় অবস্থানকালে জামারা থেকে নিজের তাঁবুর পথ এবং মসজিদুল হারামে যাতায়াতের রাস্তা সম্পর্কে ধারণা রাখা দরকার। ভিড় এড়াতে অনেকেই টানেল বা হাঁটার পথ ব্যবহার করেন। প্রয়োজন হলে স্থানীয় বাংলাদেশি বা গুগল ম্যাপ ও হজ অ্যাপের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
আগে থেকেই এসব বিষয়ে ধারণা থাকলে হজের সময় চলাফেরা অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়। এতে হারানো কোনো ভয় থাকে না। হারানোর ভয় নিয়ে চলাফেরাও করা লাগে না। ভয়হীন চলাচল করা যায়। শুধু নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।
/এসএকে