পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায় মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে পর্যন্ত চিটাগাং রোড, শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকায় দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে অনেকে ভোর থেকেই কাউন্টারে এসে অপেক্ষা করছেন। বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস কাউন্টারে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদ উপলক্ষে টিকিটের চাহিদা বাড়ায় কিছু পরিবহন সংস্থা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কিনছেন।
কক্সবাজারগামী যাত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, সাধারণ সময়ে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় কক্সবাজার যাওয়া যায়। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে একই টিকিট ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, প্রয়োজন থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই টিকিট নিতে হয়েছে।
কুমিল্লাগামী যাত্রী রেশমা আক্তার বলেন, প্রতি ঈদেই ভোগান্তি থাকে। এবারও চাপ বাড়ছে। সকালে এসে টিকিট পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
মতলবগামী গার্মেন্টসকর্মী আব্দুল জলিল বলেন, আগে ১৫০ টাকায় বাড়ি যেতেন, এখন ২৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। ঈদের সময় পরিবারকে দেখতে যাওয়ার বিকল্প না থাকায় বেশি ভাড়ায়ই যাত্রা করতে হচ্ছে।
সিলেটগামী চাকরিজীবী আসমা আক্তার জানান, আগে ৭০০ টাকায় যাওয়া যেত, এবার কিছুটা বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। তবে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোই তার প্রধান অগ্রাধিকার।
এদিকে পরিবহন কাউন্টারগুলোর পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ইম্পেরিয়াল পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা আলী নূর জানান, আগে ছাড় দিয়ে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় টিকিট বিক্রি করা হতো। ঈদ উপলক্ষে এখন কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
জৈনপুর পরিবহনের এক কর্মী জানান, মতলব রুটে আগে ভাড়া ছিল ১৭০ টাকা, বর্তমানে ঈদের কারণে ৮০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কুমিল্লা-চাঁদপুর-হাজীগঞ্জ রুটের পদ্মা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা রহমতুল্লাহ বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছেন অনেকে। দুপুরের পর কাউন্টারগুলোতে আরও বেশি ভিড় হবে বলে ধারণা করছি।
অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ থাকলেও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। শিমরাইল, কাঁচপুর ও মোগরাপাড়া এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এতে স্বস্তিতে গন্তব্যের পথে রওনা হচ্ছেন যাত্রীরা।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ট্রাফিক ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শিমরাইল, চিটাগাং রোড কাঁচপুর ও তারাবো এলাকায় ৪০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চলবে।
হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হাইওয়ে পুলিশ। যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, মদনপুর, মোগরাপাড়া ও মেঘনা ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই