পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত আয়োজনের জন্য পটুয়াখালী পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এবার এই ঈদগাহে একসঙ্গে ১০ হাজারেরও বেশি মুসল্লির নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ ইতিমধ্যে শেষ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌর প্রশাসক, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিক প্রস্তুতি দফায় দফায় তদারকি করছেন। ঈদের দিন বৈরী আবহাওয়া বা বৃষ্টি থাকলেও মুসল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য মূল প্যান্ডেলের ওপরে ও চারপাশে ওয়াটারপ্রুফ ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্যান্ডেলের ভেতর পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মুসল্লিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদগাহের ভেতরে ও বাইরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। এবার ঈদগাহের মূল সীমানার বাইরেও অতিরিক্ত প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ধারণক্ষমতার বেশি মুসল্লি হলেও কোনো সমস্যা না হয়। ঈদের দিন পৌর শহরে যানজটমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সড়ককে 'ওয়ান-ওয়ে' (একমুখী) করে দিচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়া ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিনোদনমূলক কিছু উদ্যোগের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ছাড়াও পটুয়াখালী শহরের চরপাড়ায় জেলা প্রশাসক ঈদগাহ, মডেল মসজিদ সংলগ্ন অস্থায়ী ঈদগাহ এবং মির্জাগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার সংলগ্ন ঈদগাহে আরও তিনটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন ঈদগাহে ৫১১টি এবং বিভিন্ন মসজিদে ১ হাজার ৭৪১টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদ ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। মুসল্লিরা যাতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই