সীমান্ত নয়, যেন মৃত্যুর করিডর

হামীম কেফায়েত

মতামত

সীমান্তে গুলি থামাতে হলে শুধু কূটনৈতিক বৈঠক নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জবাবদিহি এবং মানুষের জীবনের প্রতি প্রকৃত সম্মানও দরকার।সোনারহাটের পাল্টা গুলি

2026-05-27T16:29:00+00:00
2026-05-27T16:29:00+00:00
 
  শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
মতামত
সীমান্ত নয়, যেন মৃত্যুর করিডর
হামীম কেফায়েত
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:২৯ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
সীমান্তে গুলি থামাতে হলে শুধু কূটনৈতিক বৈঠক নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জবাবদিহি এবং মানুষের জীবনের প্রতি প্রকৃত সম্মানও দরকার।

সোনারহাটের পাল্টা গুলি একটি সংকেত দিয়েছে যে বাংলাদেশ আর কেবল প্রতিবাদপত্রের মধ্যে থাকতে রাজি নয়, পাল্টা গুলির জন্যও তারা প্রস্তুত। কিন্তু সংকেত দেওয়া আর নীতি প্রতিষ্ঠা করা এককথা নয়।

ফেলানীর মা এখনও বিচারের অপেক্ষায় আছেন। স্বর্ণার পরিবারের অপেক্ষাও শেষ হয়নি। মুরসালিনের পরিবারও হয়তো বহু বছর ধরে সেই রাতের ব্যাখ্যা খুঁজবে

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৪ হাজারেরও বেশি কিলোমিটার দীর্ঘ রেখাটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাণঘাতী সীমান্ত। এই রক্তের হিসাব রাখে মানবাধিকার সংস্থাগুলো, পত্রিকার পাতা আর যে মায়েরা প্রতি বছর নির্দিষ্ট একটি তারিখে সন্তানের কবরের পাশে বসে কাঁদেন। রাষ্ট্র সেই হিসাব পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও বহু সময় সেটিকে একটি অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান হিসেবে আড়াল করে রাখে।

সীমান্তে যখন কেউ মারা যায়, তখন তার জীবনের মূল্য নির্ধারিত হয় একটিমাত্র শব্দে। চোরাকারবারি। এটি উচ্চারণ করা মাত্র যেন সব দায় শেষ হয়ে যায়। মৃত মানুষটির বয়স থাকে না, পরিবার থাকে না। থাকে শুধু একটি তকমা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে সম্প্রতি যে দুজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের একজন মুরসালিনের বয়স ছিল মাত্র বিশ বছর। স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসির ছাত্র। তার পরিবারের বক্তব্য, সে দিন রাতে স্থানীয় কিছু লোক তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল সীমান্তের দিকে। সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পূর্ণ বিবরণ সামনে আসার আগেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। অপর নিহত নবীর হোসেনের পরিচয়ও খুব বেশি আলোচনায় আসেনি। বিজিবির বক্তব্য অনুযায়ী, চোরাচালানের উদ্দেশ্যে তারা ভারতের প্রায় ২০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গুলি চলে। দুটি তরতাজা প্রাণ শেষ হয়ে যায়। তাদের মরদেহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারতের ভেতরেই পড়ে ছিল, পরে ফেরত দেওয়া হয়।
এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। এটি একটি দীর্ঘ, একটানা ইতিহাসের সাম্প্রতিক অধ্যায়।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাবে, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিএসএফের গুলিতে অন্তত ১ হাজার ২৩৬ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ১ হাজার ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালে ৩১ জন, ২০২৪ সালে ৩০ জন, আর ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালেই সীমান্ত হত্যা সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

এই পরিসংখ্যানের পেছনে আরও একটি শিউরে ওঠার মতো বাস্তবতা আছে। নেত্র নিউজ ও বাংলাদেশ প্রটেস্ট আর্কাইভের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ২৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি বিএসএফের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৪ সালেই মারা গেছেন ছয়জন শিশু-কিশোর। কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী গ্রামে বড় হওয়া শিশুরা ঘুড়ি ওড়ায়, ফুটবল খেলে, আবার ছোটবেলা থেকেই শুনে গুলির শব্দ। সীমান্ত তাদের কাছে কোনো বিমূর্ত ভূরাজনীতি নয়, বরং প্রতিদিনের আতঙ্কে মৃত্যুর এক রক্তমাখা করিডর।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে পনেরো বছরের কিশোরী ফেলানী খাতুন বাবার সঙ্গে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরছিলেন। দিল্লিতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেবার ফিরছিলেন বিয়ের জন্য। মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় তার পোশাক আটকে যায়। আতঙ্কিত ফেলানী চিৎকার করে ওঠেন। বিএসএফ সেই চিৎকারের জবাব দেয় গুলি দিয়ে। পনেরো বছরের একটি নিরস্ত্র কিশোরীর মরদেহ কয়েক ঘণ্টা কাঁটাতারের সঙ্গে ঝুলে থাকে। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

তারপর কী হয়েছিল? ২০১৩ সালে বিএসএফের নিজস্ব আদালতে বিচার শুরু হয়। অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। পুনর্বিচারেও একই রায় আসে। ২০১৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল হয়, সেটি আজও ঝুলে আছে। ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বহুবার বলেছেন, প্রতি বছর ৭ জানুয়ারি এলেই তার বুক ফেটে কান্না আসে। সেই বিচারের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি।

ফেলানীর পরেও সীমান্তে মৃত্যু থামেনি। ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন চৌদ্দ বছরের কিশোরী স্বর্ণা দাস। মায়ের হাত ধরে ত্রিপুরায় অভিবাসী ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন তিনি। তার মরদেহ ফেরত পেতে লাগে প্রায় ৪৫ ঘণ্টা। ফেলানী থেকে স্বর্ণা, তেরো বছরের ব্যবধানে একই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি।

এই পুনরাবৃত্তির কারণ কাঠামোগত। বিএসএফ সীমান্ত হত্যাকে সাধারণত ‘হত্যা’ বলে স্বীকার করে না। তাদের ভাষায় এগুলো ‘অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু’ কিংবা ‘আত্মরক্ষার্থে গুলি’। বিএসএফ আইন অনুযায়ী, সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া ফৌজদারি মামলা করা প্রায় অসম্ভব। ফলে যত মানুষই মারা যাক, কার্যকর জবাবদিহির নজির খুবই কম। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতিই বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে সম্ভব করে তুলছে।

বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে অসংখ্যবার। প্রতিবারই সীমান্ত হত্যা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি এসেছে। প্রতিবারই কয়েক মাস পর নতুন করে গুলির খবর এসেছে সীমান্ত থেকে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও বাংলাদেশ সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি তোলে। সেই বৈঠকের পরের দুই মাসেই কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হন। প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে সিলেটের গোয়াইনঘাটের সোনারহাট সীমান্তে গত সোমবার বিকালের ঘটনাটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএসএফের গুলিবর্ষণের জবাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। কোনো হতাহত হয়নি, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ঘটনাটির তাৎপর্য সংখ্যায় নয়, প্রতিক্রিয়ায়। বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় তারা পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। এটি কেবল একটি সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, একটি রাষ্ট্রীয় বার্তাও।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার ক্ষমতায় বসার পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ভারতের নির্বাচনি রাজনীতিতে বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশকে ‘অনুপ্রবেশ’ ও ‘সীমান্ত নিরাপত্তা’ ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিক বক্তব্য তৈরি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারও নির্বাচনি প্রচারে এই ইস্যু জোরালোভাবে ব্যবহার করেছে। ফলে ক্ষমতায় বসার পর প্রথম দিকের সিদ্ধান্তে সীমান্ত বেড়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া কেবল নিরাপত্তা নীতি নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।

বাংলাদেশ সীমান্তের ৪ হাজার ৯৬.৭ কিলোমিটারের মধ্যে ভারত ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২৪০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। বাকি অংশে কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শূন্য রেখার অত্যন্ত কাছাকাছি অবকাঠামো নির্মাণের চেষ্টা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার সে সময় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে উদ্বেগ জানায়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া অনুযায়ী শূন্য রেখার কাছাকাছি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য, বাংলাদেশ কাঁটাতারের ভয় পায় না, রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সীমান্ত ইস্যুতে তুলনামূলক নিষ্ক্রিয় অবস্থানে দেখা গেছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের সময় ভারতকে ট্রানজিট, বন্দর ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হলেও সীমান্ত হত্যার মতো প্রশ্নে বাংলাদেশের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি, এমন সমালোচনা দেশের ভেতরে বহুদিন ধরেই আছে। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় ভাষায় একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। সোনারহাটের পাল্টা গুলি সেই ইঙ্গিতকে কার্যত দৃশ্যমান করে তুলেছে।

তবে এখানেই মূল প্রশ্নটি আসে। দৃঢ়তার এই ভাষা কি কেবল মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া, নাকি এর পেছনে একটি সুসংগঠিত কূটনৈতিক কৌশলও আছে? সীমান্ত হত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোকে কি আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হবে? মানবাধিকার কর্মীদের অনেকে মনে করেন, কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামগুলোতেও বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে তুলতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও দীর্ঘদিন ধরে বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে। এই প্রশ্নটি তাই কেবল বাংলাদেশ বনাম ভারত নয়, ভারতের ভেতরেও সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বর আছে। বাংলাদেশ চাইলে সেই কণ্ঠগুলোর সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারে। কারণ সীমান্ত হত্যা নিয়ে সবচেয়ে কার্যকর আন্তর্জাতিক অবস্থান তৈরি হয় তখনই, যখন সেটি শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর মানবাধিকার প্রশ্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

কুলাউড়ার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি যাদের পুশইন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাত বছরের একটি শিশুও ছিল। সে কোনো ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ ছিল না, ছিল একটি দরিদ্র পরিবারের সদস্য, যারা বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিল। অথচ তাকেও রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করে পাঠানো হয়েছে, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই। কোনো ব্যক্তির পরিচয়, নাগরিকত্ব বা আইনি অবস্থান যাচাই না করে তাকে জোর করে সীমান্ত পার করে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সীমান্তে এই ধরনের ঘটনার অভিযোগ আরও বেশি সামনে আসছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে বহু মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিক থাকার অভিযোগও উঠেছে।

এই সব মিলিয়ে যে চিত্রটি দাঁড়ায় তা হলো, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একটি কাঠামোগত অসাম্য বহু বছর ধরে কাজ করছে। একদিকে ভারতের নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিএসএফের দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং নির্বাচনি রাজনীতিতে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা-ঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির ওপর নির্ভরতা এবং সীমিত রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা। এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে প্রতি বছর বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।
সীমান্তে গুলি থামাতে হলে শুধু কূটনৈতিক বৈঠক নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জবাবদিহি এবং মানুষের জীবনের প্রতি প্রকৃত সম্মানও দরকার। 

ফেলানীর মা এখনও বিচারের অপেক্ষায় আছেন। স্বর্ণার পরিবারের অপেক্ষাও শেষ হয়নি। মুরসালিনের পরিবারও হয়তো বহু বছর ধরে সেই রাতের ব্যাখ্যা খুঁজবে। সীমান্তের ইতিহাসে এই নামগুলো কেবল সংখ্যা নয়, এগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় রাষ্ট্রনীতির নীরব রক্তক্ষরণের দলিল।

লেখক :  চিফ আর্টিস্ট, দৈনিক সময়ের আলো

/এসএকে


  বিষয়:   সীমান্ত  মৃত্যু  করিডর  বিএসএফ  বিজিবি 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: