স্বচ্ছ বিচারেই পূরণ হবে শহিদদের ঋণ

সম্পাদকীয়

মতামত

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার পর্যায়ক্রমে করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ

2026-08-07T05:21:53+00:00
2026-08-07T05:21:53+00:00
 
  শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
মতামত
প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার
স্বচ্ছ বিচারেই পূরণ হবে শহিদদের ঋণ
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২১ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার পর্যায়ক্রমে করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে বিচার সম্পন্ন হবে। গত বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। 

সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মারা গেছেন ৮৪৩ জন। আহত হয়েছেন বহু সংখ্যক। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে পনেরো বছরের শাসনামলে ১ হাজার ৫৬৯ জন মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন।

২ হাজার ৬৯৯ জনেরও বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যারা মারা গেছেন তাদের আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তবে তাদের স্বজনদের ন্যায়বিচার দেওয়া সম্ভব। বিচারে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে। কোনো কারণে বিচারকাজ বিলম্বিত হলে বা দীর্ঘায়িত হলে ন্যায়বিচারের ধারণা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় ঘোষণা ন্যায়বিচার প্রত্যাশী মানুষকে আশান্বিত করবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের বিচার করা আইনের শাসনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। সেটা করা না গেলে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে। আশার কথা, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক আছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বচ্ছ বিচারের কথা বলেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের সুষ্ঠু বিচার করা না গেলে সেটা একটা মন্দ উদাহরণ হয়ে থাকবে। তখন দেশে দায়মুক্তির অপসংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। এ কারণে প্রতিটি মামলার তদন্ত হতে হবে প্রমাণভিত্তিক। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযুক্তের ন্যায়বিচারের অধিকারও রক্ষা করতে হবে। আদালতের স্বাধীন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। 

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়াও জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি হাসপাতালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করব, সরকারের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চালু থাকবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্মৃতি সংরক্ষণের মহতী এই উদ্যোগ সতর্কতার দাবি রাখে। 

জাদুঘর যেন একটি দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান না হয়। অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে দুর্বল করে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীও একই কথা বলেছেন। জাতীয় স্মৃতি জাদুঘরে বিভিন্ন উৎসের দলিল, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, গবেষণা, বিচারিক নথি এবং বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক তথ্য স্থান পাবে- সেটাই স্বাভাবিক।

এ ক্ষেত্রে স্বাধীন গবেষক, ইতিহাসবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তা হলে জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্ঞানভান্ডারে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না, এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   জুলাই  অভ্যুত্থান  সময়েল আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: