রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর কানাপাড়া ঈদগাহকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঈদগাহের ইমামকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। এতে এলাকাবাসী দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহার জামাতকে ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।
সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাহের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরির পাশাপাশি মাজহারুল উলুম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে একাংশের দাবি, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এ অভিযোগ থেকেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত।
ইমামের বিরোধী পক্ষের বাসিন্দা পিয়ারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে তারা ইমামের পেছনে নামাজ পড়বেন না। ফলে এবার দুইটি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে ইমামের সমর্থক প্রফেসর সানাউল্লাহ বলেন, একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং মাদ্রাসা দখলের উদ্দেশ্যে ইমামকে সরাতে চায়। অধিকাংশ মুসল্লিই তার পেছনে নামাজ আদায় করতে চান বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না এবং দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এখানে ইমামতি করে আসছেন। প্রশাসন যদি দায়িত্ব দিতে নিষেধ করে, তিনি তা মেনে নেবেন বলেও জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত দুইটি পৃথক জামাত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গোদাগাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষ এড়াতে দীর্ঘ আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় এবং অন্যটি সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
গোদাগাড়ী থানার ওসি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে, পাশাপাশি বিজিবিও দায়িত্ব পালন করবে।
/এসএকে