ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ‘এমওইউ’ খসড়া প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে আন্তর্জাতিক মহলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। বুধবার (২৭ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের র্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে এক্সে ‘টুইটার’ দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে বলা হয়, ইরান নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদনটি মোটেও সত্য নয় এবং তারা যে সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যা প্রচার করছে তা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস করা উচিত নয় উল্লেখ করে ওই পোস্টে বলা হয়, সত্য সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, দুই দেশের খসড়া সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে তাদের সব সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আরোপিত আন্তর্জাতিক নৌ অবরোধও পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলে তারা উল্লেখ করে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রচারিত তথাকথিত নথির অনেক তথ্যই বর্তমানে দুই দেশের মাঝে চলমান বাস্তব আলোচনার সঙ্গে একেবারেই মেলে না। যদিও ওয়াশিংটন এর আগে এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছিল, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থাকা অবরোধ কিছুটা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা ভালোভাবেই সামনের দিকে এগোচ্ছে এবং এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।
তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধুমাত্র এমন একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি করবেন যা আমেরিকান জনগণের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ভালো হবে এবং যা নিশ্চিত করবে যে ইরান ভবিষ্যতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। বর্তমানে চলমান এই আলোচনা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদন না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
সময়ের আলো/টিএইচ