ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ব ও সংযমেরও শিক্ষা দেয়। এই দিনে মুসলমানরা একে অপরের কাছে আসে, ভুল বোঝাবুঝি দূর করে এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাই ঈদের আনন্দ যেন কোনোভাবেই গুনাহ, অপচয় বা অন্যায় কাজে পরিণত না হয়- সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, ঈদের দিন কিছু কাজ থেকে বিরত থাকাই প্রকৃত ঈদের সৌন্দর্য।
ঈদের দিন রোজা রাখা
দুই ঈদের দিন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় রোজা রাখা হারাম। হাদিসে স্পষ্টভাবে এ নিষেধাজ্ঞা এসেছে। নবীজি সা. ঈদের দিনগুলোকে আনন্দ, খাওয়া-দাওয়া ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
এছাড়াও ঈদুল আজহার পরবর্তী ১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ, এই তিন দিনও রোজা রাখা নিষিদ্ধ। এ দিনগুলোকে ‘আইয়ামে তাশরিক’ বলা হয়।
হিংসা-বিদ্বেষ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা
ঈদ মিলন ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে আসে। তাই এই দিনে কারও প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ কিংবা সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা একজন মুমিনের জন্য শোভন নয়। ইসলাম মানুষকে ক্ষমা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়।
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেছেন, ‘হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেভাবে আগুন খড়কুটো পুড়িয়ে ফেলে।’
ঈদের দিনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পুরোনো বিরোধ ভুলে যাওয়াই একজন মুসলমানের কর্তব্য।
বাজি-পটকা ও জুয়া থেকে দূরে থাকা
ঈদের আনন্দকে কেন্দ্র করে অনেক জায়গায় বাজি-পটকা ফোটানো ও জুয়ার আসর বসতে দেখা যায়। অথচ এসব ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক তীর- এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’
বাজি-পটকাও অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’
ঈদ হোক পবিত্রতা, ভালোবাসা ও মানবতার উৎসব। ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই মিলেমিশে কাটুক এই আনন্দের দিন। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অপচয় ও অনাচার দূর হোক। নবীজি সা.- এর আদর্শে আলোকিত হোক আমাদের ঈদ ও আমাদের জীবন।
সূত্র : বোখারি - ১৯৯২, মুসলিম - ১১৪১, আবু দাউদ - ৪৯০৩, সুরা মায়েদা - ৯০, সুরা বনি ইসরাইল - ২৭
এএডি/