ওমানকে সামরিক শক্তি প্রয়োগে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাম্ভিক হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর রহস্যজনক ‘নীরবতা’র তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মানিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ নিলি আহমাদাবাদি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর এই অন্ধ নীরবতা যুদ্ধবাজদের আরও বেশি উগ্র ও বেপরোয়া হতে উৎসাহিত করছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’র বরাতে জানা গেছে, ওমানকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরপরই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরানি কূটনীতিবিদ। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্প মূলত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলছিলেন, যা ইরান ও ওমান— দুই দেশের উপকূলীয় জলসীমা হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হওয়ার কথা।
ইরানি রাষ্ট্রদূত মাজিদ নিলি আহমাদাবাদি বলেন, আজকে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও হুমকিমূলক যুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো, তা এখন ওমানের মতো একটি শান্তিপূর্ণ দেশের ওপরও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতিহাস ও অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, কোনো আগ্রাসন বা অন্যায়ের মুখে নীতিহীন সুবিধাবাদ এবং নীরবতা কখনো সংকট দূর করতে পারে না। বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনলঙ্ঘন, জবরদখল এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে জিম্মি করার বিষয়টিকে স্বাভাবিক নিয়মে (নরমালাইজেশন) পরিণত করে।
তিনি ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কিছু ইউরোপীয় পক্ষের এই ধারাবাহিক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবাজ শক্তিগুলোকে পারাপারহীন অপরাধ করার লাইসেন্স দিচ্ছে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই পুরো বিশ্বকে এই বিপজ্জনক ও আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী একতরফা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়াতে হবে।
/কহু