চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে রাখা একটি পাম তেলবাহী বড় ট্যাংকারের জেনারেটর কক্ষে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ড সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় চার ঘণ্টা পর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্টগার্ডের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দরের শক্তিশালী টাগবোটগুলো একযোগে সাগরের বুকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। সকলের নিরবচ্ছিন্ন ও যৌথ প্রচেষ্টায় বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে জেনারেটর কক্ষের সেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অগ্নিকাণ্ডের জরুরি বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোস্টগার্ডের বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণকারী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ‘এমটি মেঘনা ট্রেডার’ নামের এই তেলবাহী ট্যাংকারটি ইন্দোনেশিয়া থেকে সাড়ে ১১ হাজার টন পাম তেল নিয়ে গত ২৬ মে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। জাহাজটি থেকে ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পাম তেল খালাস করা সম্পন্ন হয়েছে।
আজ সকালে হঠাৎ আগুন লাগার পরপরই ট্যাংকারটির জেনারেটর কক্ষ থেকে সেখানে কর্মরত সব নাবিক ও ক্রুদের অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অক্ষত ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। সময়মতো উদ্ধার কাজ শুরু করায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার মতো বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।
সময়ের আলো/টিএইচ