মাঠে দাঁড়িয়ে অভিনব কায়দায় শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলায় উৎসাহ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সাড়া জাগানো ফেনীর স্কুল শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মুঠোফোনে সরাসরি ওই শিক্ষিকার সাথে কথা বলে এই আমন্ত্রণ জানান।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গিল্লাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই সহকারী শিক্ষিকার সাথে দীর্ঘ সময় ফোনালাপ করেন প্রতিমন্ত্রী। ফোনে পলি ও তাঁর পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী তাঁকে দেশের মূল স্রোতধারার ক্রীড়াঙ্গনে কাজ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন।
দীর্ঘ এই ফোনালাপে শিক্ষিকা পলি খেলাধুলার সাথে তাঁর পুরো পরিবারের গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাঁর মুখে পারিবারিক ক্রীড়া ঐতিহ্যের বিবরণ শুনে এবং খেলাধুলার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা উপলব্ধি করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে পলির এই অদম্য উদ্দীপনা, মাঠের অভিজ্ঞতা এবং ক্রীড়াসুলভ মানসিকতাকে দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদরের এই শিক্ষিকার পুরো পরিবারই ক্রীড়া ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। তাঁর বাবা সৈয়দ মমিনুল ইসলাম একসময় ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন এবং ভাই সৈয়দ মামুনুল হাসান ছিলেন ফেনী জেলার নামী ফুটবলার। পলি নিজে এবং তাঁর বোন ফেনী মহিলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলেছেন।
এছাড়া তাঁর প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন সকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে বৃষ্টির মধ্যে টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন গিল্লাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষিকা পলির উৎসাহ দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
দেশজুড়ে ইতিবাচক সাড়া জাগানো সেই ভিডিওটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তাঁর নির্দেশনায় গত ২৬ মে ফেনী জেলা প্রশাসন ওই শিক্ষিকার বাসায় বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর সেই বিশেষ শুভেচ্ছার পর প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি এই ফোনালাপ ও কাজের প্রস্তাব গুণী এই শিক্ষিকাকে রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
সময়ের আলো