যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তহবিলের উদ্দেশ্য ছিল সরকারের ‘অস্ত্রায়ন’ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
শুক্রবার (২৯ মে) ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক লিওনি ব্রিংকেমা এক আদেশে জানান, আদালতে পরবর্তী আইনি শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিল গঠন বা পরিচালনার বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নামে এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্পের কর নথি ফাঁসের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর বিরুদ্ধে করা মামলার সমঝোতার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন গঠনের পরিকল্পনা ছিল। কমিশনটি এমন ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছিল, যারা নিজেদের ‘ল-ফেয়ার’ ও ‘ওয়েপনাইজেশন’-এর শিকার হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন। ট্রাম্প ও তাঁর মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত ও ফৌজদারি মামলাগুলো বোঝাতে এসব শব্দ ব্যবহার করে আসছেন।
এদিকে, ট্রাম্প-ভ্যান্স প্রশাসনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধী হিসেবে নিজেদের লক্ষ্যবস্তু দাবি করে একটি গোষ্ঠী আদালতে মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ, এই তহবিল থেকে তারা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন না।
তহবিল ঘোষণার পর ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে কয়েকজন আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলায় জড়িত কিছু ব্যক্তিও করদাতাদের অর্থে গঠিত এই তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারেন।
/এসএকে